পদোন্নতি ও শিক্ষক সংকটের সমাধানে প্রশাসনের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষকরা। বুধবার (২২২২ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম।
এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ও পদোন্নতি জটিলতার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) একদিনের কর্মবিরতি পালন করা হয়।
দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার থেকে শিক্ষকরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যান।
শিক্ষকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার কর্মসূচি পালন করা হলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল উপাচার্যকে পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম দেন শিক্ষকরা।
পরে ১৯ এপ্রিল মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন আমরণ অনশন শুরু করেন। ২০ এপ্রিল তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং ১০২ জন শিক্ষকের লিখিত আশ্বাসের পর অনশন ভাঙেন।
এদিকে কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সেশনজটসহ এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
তিনি ইউজিসির মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, বর্তমানে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক মুসতাকিম মিয়া বলেন, উপাচার্য জানিয়েছেন ইউজিসির নীতিমালা ছাড়া পদোন্নতি সম্ভব নয়।
কিন্তু বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘদিন কার্যক্রম চললেও এখন সংকট তৈরি হয়েছে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সমাধান হলে পরে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যূনতম যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য ২৪ জন অধ্যাপকের পদোন্নতি আপাতত আইনগতভাবে সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি শিক্ষকদের নীতিমালা প্রণয়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাস ও পরীক্ষা চালু রাখার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, পদোন্নতির বিষয়টি সমাধানে ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।