মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। জোয়ারের বাড়তি পানি ও দমকা হাওয়ার প্রভাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীতীর ধসে পড়ছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
সরেজমিনে মালুচি, গোপীনাথপুর ও কাঞ্চনপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় পাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও আবার বড় বড় অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত দুই দশকে পদ্মা নদীর ভাঙনে হরিরামপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। শুধু গত বছরেই প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। চলতি বছরেও ইতোমধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেসব এলাকায় এখনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি, সেসব স্থান বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে আগে ফেলা জিও ব্যাগগুলোর অনেকগুলোই নিচের মাটি সরে যাওয়ায় কার্যকারিতা হারিয়েছে।
উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন, “আমার বাড়ি তিনবার নদীতে গেছে। এখনো ভিটা নদীর খুব কাছে। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দরকার।”
একই এলাকার বাসিন্দা লিপি বেগম বলেন, “প্রতি বছরই ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছি। পানি বাড়লেই ভয় শুরু হয়। জানি না আর কতদিন টিকে থাকতে পারব।”
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে।
এদিকে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষায় ভাঙন আরও তীব্র হতে পারে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হবে নদীতীরবর্তী মানুষকে।