চলতি সাপ্তাহের ১৩ এপ্রিল রাত ১০ টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাউরভাগ গ্রামের মাজপাড়া এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এলাকাবাসীর ধাওয়ায় এক ডাকাত আটক হয়ে স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হয়। পালিয়ে যায় অন্যরা। যাওয়ার সময় ডাকাত দলের সদস্যরা গুলি ছুড়ে এলাকাবাসীর উপর। তবে এসব গুলি আটক ডাকাত দলের সদস্য'র শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সৈয়দ শামসুর রহমান ওরফে আতিক নামে স্থানীয়দের হাতে আটক ডাকাতকে পাইপগান ও ২১ রাউন্ড গুলি সহ আহত অবস্থায় গ্রেফতার করে নিয়ে আসে।
ঘটনার পর পরই জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশে ব্যাপক তদন্ত শুরু করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
এর দুদিনের মাথায় বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ভোরে বিভাগীয় শহর সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলা থেকে পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের মধ্যে শীর্ষ ডাকাত সহ দু'জনকে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে আরও দুই ডাকাতকে গুলি ছুড়ায় ব্যবহৃত পাইপগান ও কার্তুজের খোসা সহ গ্রেফতারের তথ্যটি নিশ্চিত করেন অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।
গ্রেফতার দুই শীর্ষ ডাকাত হলেন, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার হরিধরপুর গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের কালনিরচর গ্রামের মৃত: জয়তুন উল্লাহ এর ছেলে আশরাফুল হোসেন ওরফে আশাই (২৯)। আর ঘটনার সময় আটক সৈয়দ শামসুর রহমান ওরফে আতিক এর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায়।
এদিকে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির পূর্ব প্রস্তুতির ওই ঘটনা ঘিরে আটক দুই ডাকাতের দেয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের মথাখাই পশ্চিম বাড়ন্তি হাওরের কলারবাগ নামক স্থান থেকে এ ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজের খোসা উদ্ধার করে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দুটি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড গুলি ও ঘটনার সময়ে ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে সিলেট অঞ্চলে ডাকাতিসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১১টি এবং আতিকের বিরুদ্ধে ৫ টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জনান, ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।