× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সাংগ্রাই ঘিরে প্রস্তুতি: মৈত্রী বর্ষণের অপেক্ষায় পাহাড়

আকাশ মারমা মংসিং বান্দরবান।

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরপর পাহাড়ের শুরু হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই পোঃয়ে বা মৈত্রীবর্ষণ। 'সাংগ্রাই মা ঞিঞি ঞাঞা' সুরেলায় কণ্ঠে প্রতিটি পাহাড়ের এখন আনন্দের বন্যা। পাহাড়ের বুক জুড়ে এখন উৎসবের স্পন্দন। প্রকৃতির সাথে মিশে গেছে মানুষের উচ্ছ্বাস। বান্দরবানের প্রতিটি পাড়া, প্রতিটি মুখে এখন শুধু একটাই অপেক্ষা—সাংগ্রাই।

প্রধান সামাজিক উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। প্রতি পাহাড়ের পল্লিতে পুরোদমে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

পাহাড়ের গ্রামগুলোতে এখন ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। ঘরে ঘরে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নতুন পোশাক প্রস্তুত, আর ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির তোড়জোড়। তরুণ-তরুণীরা মহড়া দিচ্ছে নাচ-গানের, আর বয়োজ্যেষ্ঠরা ব্যস্ত উৎসবের আচার-অনুষ্ঠান ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনায়।

সাংগ্রাই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো পানি খেলা বা জলকেলি উৎসব। আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরা এই আয়োজনে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভকামনা জানানো হয়। এতে পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে মুছে যায়, আর নতুন বছর আসে নির্মল আনন্দ নিয়ে।

মারমা সম্প্রদায়ের মতে, সাংগ্রাই শুধু মারমা সম্প্রদায়ের নয়, এটি এখন বান্দরবানের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একসাথে মিলিত হয়ে উদযাপন করে এই উৎসব, যা সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ। পাহাড়ের নীরব প্রকৃতির মাঝে সাংগ্রাই যেন এক রঙিন জাগরণ। পুরোনোকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানানোর এই উৎসব বারবার মনে করিয়ে দেয়—সংস্কৃতির বন্ধনই মানুষকে একত্রে বেঁধে রাখে।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলা জুড়ে ১৫ তারিখ থেকে শুরু হবে পানি মৈত্রীবর্ষণ বা জলকেলি উৎসব। শহর থেকে প্রতিটি উপজেলায় ১৯ তারিখ পর্যন্ত চলবে এই পানি খেলার উৎসব। একই সাথে গ্রাম বা মহল্লায় রাতে পিঠা তৈরী, বয়োজ্যেষ্ঠ পুজা ও সাঙ্গু নদীতে চলবে বুদ্ধ স্নান। যা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এই কার্যক্রম।

বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে পানি মৈত্রী বর্ষণ খেলার জন্য বাশের কঞ্চি দিয়ে তৈরী হচ্ছে নৌকা ও বিশেষ মঞ্চ।উৎসব উপলক্ষে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ণিল শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

স্থানীয় মারমা বাজারগুলোতেও উৎসবের ছোঁয়া ও বেচাকেনা ধুম পড়েছে। বিক্রি হচ্ছে হাতে তৈরি অলংকার, ঐতিহ্য বাহী থামি পোশাক, এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প। শুধু তাই নয় বৌদ্ধ বিহারে পরিষ্কার পরিচ্ছনতার পাশাপাশি সাঙ্গু নদীতে নতুন বছরকে বরণ করতে নারী পুরুষ মিলে চলছে কাপড় ধোরা কর্মযজ্ঞ। এতে অংশ নিচ্ছেন তরুণ তরুনীরাও।

বটতলী পাড়া নৌকা কারীগর জনিমং মারমা বলেন, গত তিনদিন ধরে নৌকা,মঞ্চ তৈরী করা হচ্ছে। মৈত্রী বর্ষণ আগে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি এবার জাঁকজমক ভাবে সাংগ্রাই উদযাপন করা হবে।

পলিকা পাড়া আয়োজন কমিটি সভাপতি মংমিন বলেন, প্রতি বছরে ন্যায় এবছরেও সাঙ্গু বালু চড়ে সাংগ্রাই মৈত্রী বর্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। বাশের সাহায্যে নৌকা আর মঞ্চ তৈরী করা হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে পুরোদমে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রহমান জানিয়েছে, উৎসবকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাদা পোশাক ও বডি অন ক্যমেরা পাশাপাশি অনুষ্ঠান জুড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে ড্রোনে ব্যবহার থাকবে। সামাজিক এই উৎসবের  নির্বিঘ্নে আনন্দ ভাগাভাগি মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.