× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

নীলফামারীতে দেড় কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২২ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া এই কাজ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই সড়কের কার্পেট হাত দিয়েই উঠে যাচ্ছে—এমন অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটির সংস্কার কাজ সম্প্রতি শেষ করা হয়। তবে কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া তড়িঘড়ি কার্পেটিং এবং প্রকৌশলগত মানদণ্ড না মেনেই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

একাধিক এলাকাবাসী জানান, ধুলোবালির ওপর সরাসরি কার্পেটিং করা হয়েছে, পুরনো সড়কের কোনো সংস্কার বা বেস প্রিপারেশন করা হয়নি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে এবং কার্পেট উঠে যাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সড়কের পাশে নালার ধারে বসবাসকারী মানুষজন ধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো সড়কই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।


এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, সড়কের দুই পাশে ইটের রেজিং বা সাপোর্টিং স্ট্রাকচার না থাকায় পানি প্রবাহে রাস্তার ক্ষতি আরও দ্রুত হবে। তারা এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দায়সারা কাজের তদন্ত দাবি করেছেন।

জানা গেছে, প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করেছে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামাল হোসেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, “কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা পর্যবেক্ষণের জন্য ১২ মাসের সময়সীমা থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে ঠিকাদারকে দিয়েই তা মেরামত করা হয়। এরপরই তার সিকিউরিটি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।” তিনি দাবি করেন, এ প্রক্রিয়ার কারণে অনিয়মের সুযোগ সীমিত।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের মতে, কাজের শুরু থেকেই তদারকির ঘাটতি থাকায় এমন নিম্নমানের নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। এখনই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.