× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ফেনীতে বিভিন্ন দাবীতে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর সমাবেশ ও মানববন্ধন

শেখ আশিকুন্নবী সজীব, ফেনী জেলা প্রতিনিধি

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৩ পিএম

গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে আইনে পরিণত করতে জাতীয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর আয়োজনে বুধবার (৮ এপ্রিল) ফেনীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

অধিকার ফেনী ইউনিটের আয়োজনে ফেনী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গুমের শিকার মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রওশন আরা বেগম।  ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এ কে এম আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন মানবাধিকার সংগঠক '২৪ এর আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ জুলাইযোদ্ধা মো. আবুল হাসান শাহীন।

অধিকার ফেনীর ফোকাল পার্সন সাংবাদিক নাজমুল হক শামীমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক সাপ্তাহিক আনন্দ তারকা পত্রিকার সম্পাদক মামুনুর রশিদ, সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এন এন জীবন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খোন্দকার, জাসাস ফেনী শাখার সভাপতি সাংস্কৃতিক সংগঠক কাজি ইকবাল আহমেদ পরান।

বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার সংগঠক ও দৈনিক অজেয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক শাহজালাল ভূঁঁইয়া, একতা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রোকেয়া ইসলাম, গুমের শিকার রিপনের ভাই মাহফুজুর রহমান শিপু প্রমুখ। 

গুমের শিকার মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রওশন আরা বেগম বলেন, "গত ১১ বছর আগে আমার ছেলে গুম হয়েছে। যুবদলের নেতা হওয়ায় রাতের আঁধারে আমার ছেলেকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় র‍্যাব পরিচয়ে সদস্যরা। শেখ হাসিনা সরকারের সময় আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ছেলে গুমের সন্ধান বা বিচার পাইনি। বিদায়ী অন্তবর্তীকালীন সরকারের গুম অধ্যাদেশ তৈরি করায় অনেক আশা নিয়ে বুক বেধে ছিলাম বর্তমান সরকার আমার ছেলের গুমের বিচার করবে। কিন্তু বর্তমান সরকার গুম অধ্যাদেশ কার্যকর না করায় পায়তারায় ছেলের বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কাবোধ করছি। বিএনপি করার কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়া ছেলের গুমের বিচার যদি বিএনপি সরকার না করে তাহলে আমি বিচার কার কাছে চাইবো?' 

সমাবেশে গুমের শিকার হওয়া যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনের চাচা ওহিদুর রহমান, মানবাধিকার সংগঠক জাফর আহমেদ ভূঁইয়া, কামরুল জামান মজুমদার, সাংস্কৃতিক সংগঠক রাজিব সারোয়ারসহ সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে ফেনী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে মানবাধিকার কর্মীরা। 

অধিকার তাঁর লিখিত বক্তব্যে জানায়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তবর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ এই চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে (রহিত) জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জাতীয় সংসদে বিল আনার সুপরিশ করেছে। এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে করা অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৬ টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হিসেবে গন্য হবে এবং আগামী ১০ এপ্রিলের পর এগুলো কার্যকারিতা হারাবে।

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের এই প্রক্রিয়ার ব্যাপারে অধিকার তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে অংশ নিয়ে ৬৮ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দেন। জনগনের এই বিপুল রায়কে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সরকার দলীয় সদস্যরা বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের দাখিল করা নোট অব ডিসেন্ট অগ্রাহ্য করে বাতিলের সুপারিশ করেছেন। অধিকার স্মরণ করিয়ে দিতে চায় যে, ফ্যাসিবাদী হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দলীয়করণের মাধ্যমে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। যার ফলে বিরোধীদলের নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাধারণ নাগরিকরা বিচারিক হয়রানী, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেফতার ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ণের শিকার হয়েছিলেন। সেই সময়ে বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চললেও হাসিনা সরকারের আজ্ঞাবহ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ব্যাপারে তখন নিশ্চুপ ছিল। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কেও হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধীদের দমন করতে এবং ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সংসদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন। তাই এই সব অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করা প্রয়োজন। অথচ অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিলের মাধ্যমে তা সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানের আদলে ফিরিয়ে নেয়ার দুঃখজনক পায়তারা চলছে।

অধিকার মনে করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সরকার দলীয় সদস্যরা এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল করার যে সুপারিশ করেছেন তা ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং দেশের জনগনের প্রতি সীমাহীন অন্যায়। মানবাধিকার এবং সুশাসন ছাড়া একটি দেশ কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারে না। তাই অধিকার অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে পাশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.