রংপুর সদর কোতয়ালী থানার মহাদেবপুর চওড়াপাড়া (পশ্চিম পাড়া) এলাকায় স্থানীয় এক প্রবাসী সাংবাদিককে জড়িয়ে দায়ের করা মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক গৃহবধূকে মারধরের চেষ্টা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আপন সৎ বোনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী মোছাঃ সাবনাজ বেগম উল্লেখ করেন, তার প্রতিবেশী (আপন সৎ বোন) শাহিনুর বেগমের সঙ্গে একই এলাকার দুবাই প্রবাসী সাংবাদিক নওশের আলম সুমনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলমান রয়েছে। এই বিরোধের জেরে শাহিনুর বেগম সাংবাদিক সুমনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানীর একটি মামলা দায়ের করেন এবং ওই মামলায় তাকে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
কিন্তু তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহিনুর বেগম তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দায়ের করা অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকাল প্রায় ৩টার দিকে তার পোষা মুরগি অভিযুক্তদের জমির ফসল নষ্ট করেছে এমন অভিযোগ তুলে শাহিনুর বেগম তার বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এতে বাধা দিলে শাহিনুর বেগমসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাঁশের লাঠিসোটা নিয়ে তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে।
এ সময় অভিযুক্ত শাহিনুর বেগমের স্বামী সাহেব আলী প্রকাশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। একই সঙ্গে অন্য অভিযুক্তদের প্ররোচনায় তারা ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করে এবং বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। তবে অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী সাবনাজ বেগম জানান, শাহিনুর বেগম খুবই অত্যাচারী ও মামলাবাজ। এলাকার কমবেশি সবাই তার অত্যাচার ও মিথ্যা মামলার শিকার। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রতিবেশী সাংবাদিক সুমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে আমার সৎ বোন শাহিনুর বেগম। ওই মামলায় আমাকে মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে জোরজবরদস্তি চাপাচাপি শুরু করে। আমি মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ওপর বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার শুরু করে। তার অত্যাচারের কারণে আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এজন্য এর প্রতিকার চেয়ে কোতয়ালী সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ওসি তদন্ত মো. জহিরুল হক জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।