একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষিকার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পরকিয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজটির চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে আসামি করা হয়েছে।
গত ৩১ মার্চ ঝালকাঠী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন শিক্ষিকার স্বামী মো. মশিউর রহমান।
মামলার আসামিরা হলেন—বরিশাল নগরীর রাজধাবী ও ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম এবং একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ও বাদীর স্ত্রী আয়শা আক্তার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে ঝালকাঠী সদর উপজেলার আলীপুর শশাংক গ্রামে বাদীর শ্বশুরবাড়িতে জহিরুল ইসলাম ও আয়শা আক্তারকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বাদীর মা মর্জিনা আক্তার। এ সময় তিনি চিৎকার করলে অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ঘরে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা, এক ভরি স্বর্ণের চেইনসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে আয়শা আক্তার ও শিশুসন্তানকে সঙ্গে করে একটি প্রাইভেটকারে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী মশিউর রহমানের সঙ্গে আয়শা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, একই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের সঙ্গে আয়শা আক্তারের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে অবৈধ সম্পর্কে রূপ নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে একাধিকবার তাদের সতর্ক করা হলেও তারা সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আয়শা আক্তারের পরিবারের সদস্যদেরও অবহিত করা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও আনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এবং পূর্বে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জহিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপ কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি।