পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে মামুন খাঁ নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও শরীরে এসিড ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে কয়েকজন সন্ত্রাসী। বর্তমানে ওই যুবক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মির্জাগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মামুনের বাবা আব্দুল গনি খাঁ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন খাঁ (৩০) মহেন্দ্র ট্র্যাক্টর চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বেশ কিছু দিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী কামাল হোসেন ও তার সহযোগীরা মামুনের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে কয়েক দফা হুমকিও দেওয়া হয়। গত ৩০ মার্চ রাতে কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে মামুন বাড়ি ফিরছিলেন।
বলাইবাড়ী এলাকায় আসলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা মামুনের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে রড ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা। মামুনের চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১ এপ্রিল তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় মামুনের বাবা আব্দুল গনি খাঁ বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল হোসেন বলেন,‘ওই এলাকায় এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি একটি সাজানো নাটক। আমি এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। প্রশাসন ও আপনারা (সাংবাদিকরা) সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করুন, যদি তদন্তে আমি দোষী প্রমাণিত হই, তবে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।’
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস ছালাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।