× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সংবাদ সারাবেলা‘র প্রতিনিধি খোর্শেদ আলম এর বাজিমাত, হলুদ তরমুজ চাষে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল

মো. আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার

০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৭ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

মৌলভীবাজারের পাগাড়-টিলা ঘেরা জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যেক্তা খোর্শেদ আলম হলুদ রঙের তরমুজ চাষ করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। হলুদ তরমুজ চাষে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন তরুণ এ উদ্যেক্তা। গত ক‘দিন যাবত পুরো নেট দুনিয়ায় তাঁকে নিয়ে রীতিমতো ভাইরাল। এলাকার সীমানা পেড়িয়ে গোটা মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর খ্যাতি। 

প্রতিক’ল আবহাওয়া আর বৈরি পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা থাকলেও অদম্য সপ্নে বিভোর খোর্শেদ একেবারে হাল ছাড়েননি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাণিজ্যিকভাবে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

হলুদ তরমুজ চাষের ছবি ও ভিডিও প্রথমে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। এর পরই দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে নানা মাধ্যমে। এর পরপরই তার তরমুজ চাষে নজর পড়ে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের। প্রতিদিন তরমুজ সংগ্রহ করতে ও দেখতে হাজির হন শতাধিক মানুষ। ক্ষেতেইে হলুদ তরমুজ খেয়ে বেশ আনন্দে তা ফেসবুকে পোস্ট করছেন অনেকে। জেলার কন্টেন্ট ক্রিয়েটররাও তরমুজ নিয়ে ভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট তৈরি করতে থাকেন। খোর্শেদ আলম এর তরমুজ চাষের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার পড় প্রথম আলো সহ দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষ গণমাধ্যমে বেশ ফলাও করে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হতে থাকে।   

মাত্র ৩ বিঘা জমিতে ল্যানফে (খধহভব) নামের হলুদ রঙের তরমুজ চাষ করেছেন খোর্শেদ। ফলনও হয়েছে বেশ ভাল। ওই জাতের তরমুজ লাল রঙের তরমুজ এর চেয়ে তোলনামূলক বেশি মিষ্টি ও রসালো হয়ে থাকে। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব হলে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রির আশা তরুণ এই কৃষি উদ্যেক্তার। লালতীর কোম্পানি উদ্ভাবিত এই নতুন জাতের তরমুজ দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি এর স্বাদও অত্যন্ত সুস্বাদু ও মিষ্টি। ফলে এলাকায় সাধারণ ক্রেতাদের কাছেও এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। 

জুড়ী উপজেলার তরুণ এই উদ্যেক্তা পেশায় সংবাদকর্মী। উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন দেশের প্রথম সারির দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকায়। তবে তার নেশা নিত্য নতুন কৃষি উদ্ভাবন নিয়ে। 

খোর্শেদ আলম দীর্ঘদিন ধরে বন, প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি কৃষির প্রতিও তার রয়েছে গভীর আগ্রহ।

খোর্শেদ আলম জানান, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে হলুদ রঙের বিভিন্ন জাতের তরমুজ পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে আসছেন। তবে এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বৃহৎ পরিসরে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।

এই ব্যতিক্রমী তরমুজ দেখতে ও স্বাদ নিতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই তার খামারে ছুটে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও দেখে আগ্রহী হয়ে অনেকেই সরাসরি বাগান পরিদর্শনে আসছেন।

তরমুজ দেখতে আসা দর্শনার্থী হাসান আহমেদ বলেন, “আমাদের উপজেলায় এমন ব্যতিক্রমী ফসলের চাষ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি এই তরমুজ খেয়েছি, দেখতে যেমন আলাদা তেমনি স্বাদও খুব মিষ্টি। বাড়ির জন্যও কিছু তরমুজ নিয়ে যাব।”

প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমরা অনেক তরুণই মনে করি বিদেশে গেলেই সফল হওয়া সম্ভব। কিন্তু খোর্শেদ আলম ভাই দেখিয়েছেন দেশে থেকেও নতুন উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়া যায়। পতিত জমি কাজে লাগিয়ে কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে তরুণদের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

তরুণ উদ্যোক্তা খোর্শেদ আলম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই জাতের তরমুজ নিয়ে কাজ করছি। এবার বাণিজ্যিকভাবে ভালো ফলন পেয়েছি। আগামীতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের এলাকার জমি তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আমি চাই তরুণরা কৃষির প্রতি আগ্রহী হোক। পরিশ্রম করলে কৃষিখাত থেকেই ভালো কিছু করা সম্ভব। আমার এই উদ্যোগ যেন অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে।”

গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনি সিংহ বলেন, কৃষি অফিস থেকে সার্বিক পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার ফলে আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ সফল হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, “খোর্শেদ আলম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তা অন্য কৃষকদের জন্য অনুকরণীয়। মাল্চিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করলে ফলনের মান বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদন খরচ কমে। কৃষি অফিস থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, নতুন জাতের এই আকর্ষণীয় হলুদ তরমুজ বাজারে ভিন্নতা সৃষ্টি করেছে। ফলে ভবিষ্যতে এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ভিন্নধর্মী ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে খোর্শেদ আলম ইতোমধ্যে তরুণদের কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.