× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মধুবনে ‘গোপন অফিস’, মাসিক চুক্তিতে অবৈধ সিএনজি চলাচল

নতুন ব্রিজ এলাকায় ট্রাফিকের নাম ভাঙিয়ে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

এম. তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

চট্টগ্রামের শাহ আমানত নতুন ব্রিজ এলাকায় দূর থেকে ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিকশা মনে হলেও কাছে গেলে দেখা যায় এগুলোর অধিকাংশই গ্রাম সিএনজি ও অনটেস্ট। যেগুলো কোনো বৈধ কাগজপত্র বা ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রাইভেট সিএনজি ব্যানারে খোলস পাল্টে চলাচল করছে। এসব গাড়িতে প্রিন্ট করা কাগজের বোর্ডে ঝোলানো নম্বরগুলোও সঠিক নয়। বিভিন্ন জেলার প্রাইভেট সিএনজির নম্বর এনে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর চালকদের অনেকেই ১৪-১৬ বছর বয়সী। বেশির ভাগ চালকের নেই লাইসেন্সও। প্রতিদিন নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে পটিয়া, শান্তিরহাট, আনোয়ারা-চাতুরি ও চৌমুহনী উপজেলায় যাত্রী পরিবহন করছে এসব অবৈধ অটোরিকশা। এতে ব্যস্ততম এই ব্রিজ এলাকায় কাড়ছে যানজট সহ নিয়মিত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ট্রাফিক দক্ষি বিভাগের টিআই তুহিন আহমেদ নিয়মিত ডিউটিকালে শাহ আমানত নতুন পুলিশ বক্সের দ্বিতীয় তলায় উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সেখানে থাকেন না। ব্যস্ততম এই সড়কের মোড়ে তার উপস্থিতি প্রয়োজনীয় হলেও তিনি পুলিশ বক্স থেকে দূরে, মধুবন বেকারির পেছনে প্রতিদিন সেখানে অফিস করেন বলে সুত্র নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন ব্রিজ এলাকায় শতাধিক অবৈধ প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে মালিকরা সরাসরি এসে চুক্তি করে ট্রাফিক পরিদর্শকের সঙ্গে। প্রতিটি অটোরিকশা মাসিক প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে সড়কে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে। টিআই তুহিনের ঘনিষ্ঠ হারুন নামে এক কথিত দালালের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়। অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করলে দেওয়া হয় মৌখিক অনুমোদন। এমনকি সড়কের অন্য ট্রাফিক সদস্যরা আটক করলে ‘তুহিন সাহেবের’ নাম বললেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।


জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই এভাবে নতুন ব্রিজ এলাকায় অবাধে চলাচল করছে এসব অবৈধ যানবাহন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব সিএনজি অটোরিকশার নম্বর প্লেটে গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে গাজিপুর-দ-১১-০০৫৪, চট্টগ্রাম-দ-১১০২৫২, গাজিপুর-দ-১১-০০৭০, ঢাকা-দ-১১-১৯৮২, নারায়নগঞ্জ-দ-১১-০০৮৩, মানিকগঞ্জ-দ-১১-০০০৫, ঢাকা-দ-১১-০২৯৭, ঢাকা-দ-১১-২৬৮২, ঢাকা-দ-১১-১৯৮২, গাজিপুর-দ-১১-০০৪৭, নারায়নগঞ্জ-দ-১১-০০৫৩, গাজিপুর-দ-১১-০০৭১, সিলেট-দ-১১-০০০৬, ঢাকা-দ-১১-০০৮৯, ঢাকা-দ-১১-২৫৮৭ ও চট্টমেট্রো-দ-১১-০২০০; যা থেকে নম্বর ব্যবহারে অসঙ্গতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

এছাড়া এসব গাড়ির অধিকাংশ চালকের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের কাছে চালকের লাইসেন্স দেখতে চাইলে তারা তা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়, যা আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।


গাড়ির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই, ফিটনেসও নেই, খোলস পাল্টে গ্রাম অটোরিকশা থেকে প্রাইভেট সিএনজিতে রূপান্তরিত এসব যানবাহন সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন চালক জানান, তারা ট্রাফিকের নামে হারুনকে টাকা দিয়ে নির্বিঘ্নে গাড়ি চালাচ্ছেন। রাস্তায় গাড়ি ধরা পড়লে টিআই সাহেবের নাম বললেই ছেড়ে দেওয়া হয়, এমনকি প্রয়োজনে হারুনকে ফোনে ধরিয়ে দিলে তিনি কথা বলে সমস্যার সমাধান করে দেন। তারা আরও জানান, জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই এভাবে গাড়ি চালানো হচ্ছে। এর আগে এসব যানবাহন কোনো কাগজপত্র ছাড়াই গ্রামের লোকালয়ে গ্রাম সিএনজি হিসেবে চলাচল করত।

সূত্র জানায়, প্রতিটি সিএনপি অটোরিকশা টিআইয়ের সঙ্গে মাসিক চুক্তির ভিত্তিতে চলে, যেখানে অন্তত ১০০টি গাড়ি যুক্ত রয়েছে। প্রতিটি গাড়ির জন্য অগ্রিম সাড়ে তিন হাজার টাকা করে প্রতি মাসে শুধু গাড়ি বাবদই আয় দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। এই টাকা পরিশোধের বিনিময়ে চালকরা রুট পারমিশন পান। কোনো ট্রাফিক সার্জেন্ট যদি গাড়ি আটক বা মামলা দিতে চান, তাহলে হারুন বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করে সমাধান করেন।

জানা গেছে, ওই এলাকায় টিআইয়ের এই কথিত দালাল মো. হারুন (২৫) প্রতিটি গাড়ি থেকে নির্ধারিত সাড়ে তিন হাজার টাকার বাইরে অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে নেন। স্টেশনে প্রবেশের পরপরই চালকদের এই টাকা দিয়ে সিরিয়াল নিতে হয় আর সেই সিরিয়াল পাওয়ার পরই তারা যাত্রী তোলার সুযোগ পান।

সম্প্রতি শাহ আমানত নতুন ব্রিজ এলাকার দায়িত্বরত ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মোহাম্মদ তুহিন আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তাকে সরাসরি পাওয়া না গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জন আরিফ জানান, টিআই সাহেব বাইরে আছেন। এরপর প্রতিবেদক তাকে মধুবন বেকারির পেছনের সরাসরি উপস্থিত হয়।

মধুবেকারিতে বসা অবস্থায় মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, ‘আমি বাইরে’। পরে প্রতিবেদক জানান, ‘আমি আপনার মধুবন বেকারিতে বসে আছি।’ কল পাওয়ার পর তিনি সেখানে থেকে বের হন। অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা অনটেস্ট, রং পরিবর্তন ও প্রিন্ট করা বোর্ডের নম্বর প্লেট সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এরকম গাড়ি আমাদের এখানে নেই। থাকলেও সার্জন আটক করা হবে।’

প্রতিবেদক সরেজিমনে ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ করলে তিনি যেতে অনীহা প্রকাশ করেন।

একপর্যায়ে প্রতিবেদক চলে যাওয়ার প্রায় বিশ মিনিট পর টিআই তুহিন ফোনে বলেন, ‘আপনি কি চলে গেছেন? একটু যদি আসতে, ঘটনাস্থলে আপনাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম।’ এ উত্তরে প্রতিবেদক জানান যে, অফিসের অন্য কাজের ব্যস্ততার কারণে আর যেতে পারছেন না।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.