রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর নাগের হাট ও গোপালপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর হাটে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের চারা বিক্রির হাটটি জমে উঠেছে। সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবার হাট বসে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাগের হাট বাজারে দূর-দূরান্ত থেকে আসা কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের ধানের চারা ক্রয়-বিক্রয় করছেন। গত রোববার (২৯ মার্চে) বিকেলে চারা ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাটটি গিয়ে জানা গেছে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখরিত থাকে। উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় প্রায় আমন ধান ১৯ হাজার ৭২৫ হেক্টর, বোর ধান ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর,আউস ৪৩ হেক্টর জমিতে ধান চাষ।
সরজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, শ্যামপুর বাজার ও কুতুবপুর নাগেরহাট টি বেশ পুরাতন। বোরো মৌসুমে এই চারার হাটটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারনায় বেশ জম জমাট হয়ে ওঠেছে। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দ মত চারা দেখে দাম বলছেন। বিক্রেতারাও তাদের চারা প্রকারভেদ অনুযায়ী দাম চাচ্ছেন। এই হাটে চারা আঁটি ভেদে বিক্রি করা হয়। ছোট চারার আঁটি প্রকারভেদে ৩ টাকা ৪ টাকা ৮০ আটি ৩০০ টাকা থেকে ৩২০ টাকা বড় চারার আঁটি প্রকারভেদে ৮০ আটি ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দ মত চারা কিনে পছন্দ মত বাহনে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এই চারার হাটে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা বিক্রি হয়ে থাকে, এর মধ্যে ব্রি ধান-৭৪, বিনা ধান-১৬, হাইব্রিড-১৫ অন্যতম। বদরগঞ্জ উপজেলাসহ জেলা থেকে আসা কৃষক পাইকাররা এই ধানের চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বোরো ধানের চারা লাগানোর ধুম পড়েছে। কৃষকেরা জমিতে ধান লাগানোর জন্য বোরো মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করে থাকেন। তবে অনেক সময় কৃষকদের ধানের চারা সংকট হয়। আবার অনেকে জমিতে লাগানোর পরেও ধানের চারা উদ্বৃত্ত থাকে। বীজতলায় বেশি দিন সেই চারা রাখা যায় না। এসব চারা বীজতলা থেকে তুলে এনে সহজেই নাগেরহাটে বিক্রি করছেন কৃষকেরা। আবার সরাসরি কৃষকের বীজতলা থেকে চারা কিনে হাটে এনেও বিক্রি করছেন।
মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ এলাকা থেকে চারা কিনতে আসা আনারুল হক বলেন, বোরো মৌসুমে এই অস্থায়ী চারার হাটটি জমে উঠেছে। আশপাশের বিক্রেতারা এখানে চারা বিক্রি করে থাকে। তার ২৩৫ শতাংশ জমির জন্য এখান থেকে চারা কিনবেন। ব্রি ধান-৭৪ জাতের চারা ৩১৫০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। ৭৫ শতাংশের মত জমিতে এই চারা রোপণ করা যাবে। কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই নিজের পছন্দ মত নাজিরহাট বাজারে চারা কিনতে পেরে ভালো লাগছে।
নাগেরহাটে চারা বিক্রি করতে আসা মিঠাপুকুরের এরশাদ মোর গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার ২ শতাংশ জমিতে ধানের চারা চাষ করেছি। বাকি যে ছাড়া গুলো বেঁচে গিয়েছে সেই চারা গুলো বিক্রি করতে এসেছি। চারা ভালোই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি প্রকার ভেদে ৮০ থেকে ২০০ টাকা ২৩০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এই হাটে ব্রি ধান-৭৪, বিনা ধান-১৬, হাইব্রিড-১৫, ধানি গোল্ড হাইব্রিড, হাইব্রিড টিয়া, উফশি জাত ৮৯, সহ বিভিন্ন জাতের ধানের চারা বিক্রি হয়ে থাকে। বিক্রি বেশ ভালোই হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে এমন বিক্রি হলে ভালো লাভবান হবো।এই চারার হাটে প্রকারভেদ অনুযায়ী চারার হাটি বিক্রি হয়ে থাকে। এবারও চারার ক্রেতার সমাগম অনেক ভাল।
নাগেরহাটের ইজারাদার রামপ্রসাদ জানান, আমন ও বোরো এই দুই মৌসুমে হাটে মূলত বিভিন্ন জাতের ধানচারা বিক্রি করা হয়। সপ্তাহে দুইদিন আট বছরের রবি ও বৃহস্পতিবার। বর্তমানে প্রতি হাটে প্রায় আড়াই লাখ টাকার চারা বিক্রি হচ্ছে। গত তিন বছর ধানচারা ক্রয় বিক্রয়ের জন্য উপজেলার মধ্যে এই হাট প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে। বদরগঞ্জ উপজেলা ও রংপুরের মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরাও আসেন এখানে ধানের চারা কিনতে।
গত রবিবার বিকেলে সরেজমিনে নাগের হাটে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা হাটে ঘুরে বোরো ধানের চারা ক্রয় করছেন। বিক্রেতারাও প্রকারভেদে চারার দাম হাঁকছেন। ধানের চারা আঁটি করে বেঁধে এনে এই হাটে বিক্রি করা হচ্ছে। ছোট আকারে বাঁধা প্রতিটি বোরো চারার আঁটি ২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বদরগঞ্জ উপজেলায় ৩৫ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে রোরো-আমন ও আউসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বীজতলা তৈরি হওয়ায় চারা নিয়ে সঙ্কট হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
