কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকায় অবস্থিত মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপনের পেছনে বনবিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও যোগসাজশের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, “চা-পানির খরচ” এর নামে অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে বনভূমিতে বসতি নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বনভূমিতে বসতি স্থাপনকারী এক রোহিঙ্গা নাগরিক মো. হারেসের স্ত্রীও এ ধরনের দাবি করেছেন। যার ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জাতীয় উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাহাড়ের ঢালু কেটে সমতল করা হয়েছে এবং গাছপালা কেটে নতুন নতুন বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। কোথাও ঝুপড়ি ঘর, কোথাও আধাপাকা ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে এ ধরনের দখল কার্যক্রম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পরিকল্পিত দখলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এ দখল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দালালদের মাধ্যমে আগ্রহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং পরে সেখানে নির্বিঘ্নে বসতি স্থাপন সম্ভব হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বনবিট কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া এখানে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। চা-পানির খরচ দিলেই বসতি নির্মাণে কোনো ধরনের বাধা আসে না বলেও তারা অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে প্রতিটি বসতির জন্য আলাদা করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে লক্ষ্য করে বনভূমিতে বসতি স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আসা এসব মানুষকে বনভূমির ভেতরে ঘর নির্মাণে সহায়তা করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ঘরের জন্য নির্ধারিত হারে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বর্তমানে বনবিট এলাকার অন্তত ১০ থেকে ১২টি পাকা ও আধাপাকা বসতঘর নির্মাণাধীন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের নিয়মিত টহল কার্যক্রমেও শিথিলতা রয়েছে। অনেক সময় দখলকারীদের আগেই সতর্ক করে দেওয়া হয়, ফলে তারা নির্বিঘ্নে নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে পারে। এতে সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযুক্ত বনবিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বসতবাড়ি নির্মাণের সুযোগ দিয়ে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা হয়নি। তার দাবি, একটি চক্র তার নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, অবৈধ বসতি নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার পরপরই বনভূমি দখল করে বসতি নির্মাণকারী আবু তাহের নামের এক ব্যক্তি প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি “ম্যানেজ” করার চেষ্টা করেন। তিনি এসময় দাবি করেন, খুটাখালী ১নং ওয়ার্ডের কোনাপাড়া এলাকার আহমদ ছফা, রোহিঙ্গা নাগরিক মো. হারেসসহ তিনটি বসতঘর নির্মাণের জন্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা উৎকোচ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
বিভাগীয় বনবিট কর্মকর্তা মারুফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যানে এ ধরনের অবৈধ দখল কার্যক্রম চলতে থাকলে তা জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে। বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাতও বাড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান ধীরে ধীরে দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
