× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে নীলফামারীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী।

২৮ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৩ পিএম

নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলায় মধ্যরাতে আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষি ও জনজীবনে নেমে এসেছে ব্যাপক বিপর্যয়। আকস্মিক এই দুর্যোগে মাঠের ফসল, বসতঘর ও গাছপালার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা, যাদের অনেকেই এক রাতেই হারিয়েছেন মৌসুমের শেষ সম্বল।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ১২টার পর থেকে জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও সদর উপজেলাজুড়ে থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে তীব্র শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। কিছু এলাকায় বড় আকারের শিলার স্তূপ জমে যায়, যা মুহূর্তেই ফসলি জমিকে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে।

স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের সঙ্গে বড় বড় শিলার আঘাতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। অনেকের ঘুম ভেঙে আতঙ্কে পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে দেখা গেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এমন তীব্র শিলাবৃষ্টির অভিজ্ঞতা হয়নি বলেও জানান তারা।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টিতে আলু, গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, তামাক ও কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও গাছের পাতা ঝরে গেছে, কাঁচা ফল নষ্ট হয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ করেই ঝড়ের সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়তে শুরু করে। কয়েক মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেছে। আগে আলুতে ক্ষতি হয়েছিল, এখন অন্য ফসলও রক্ষা পেল না।”

ডোমারের চিলাহাটি এলাকার কৃষক সুমন মিয়া জানান, “শিলার আঘাতে কলা ও মরিচের খেত মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এত কষ্ট করে চাষ করেছিলাম, এখন সব শেষ।”

শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয়, বসতবাড়িতেও দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ। শিলার আঘাতে অসংখ্য টিনের ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে, অনেক স্থানে জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে। গভীর রাতে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবারকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জেলার কয়েকটি স্থানে পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

ডিমলা উপজেলার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর জানান, কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই দুর্যোগে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর রহমান জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হঠাৎ নেমে আসা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা ক্ষতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.