লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে নারী উদ্যোক্তা সালেহা বেগম বকুলের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত “মেসার্স সালেহা মৎস্য খামার”—যা এখন স্থানীয়ভাবে এক সফলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। গত আট বছর ধরে খামারটির সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তার ছোট ভগ্নিপতি ডা. খোরশেদ আলম।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালে সালেহা বেগম বকুলের আর্থিক সহায়তা ও উৎসাহে ডা. খোরশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে দুটি পুকুরে পরীক্ষামূলকভাবে মাছ চাষ শুরু হয়। শুরুতে পারিবারিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও সময়ের সাথে সাথে এটি লাভজনক হয়ে ওঠে।
বর্তমানে খামারটিতে রুই, কাতলা, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, মৃগেল, সরপুঁটি সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও লাভজনকতার ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে পুকুরের সংখ্যা বাড়িয়ে এখন মোট চারটি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ পরিচালিত হচ্ছে।
ডা. খোরশেদ আলম জানান, প্রথমদিকে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত মাছ আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে সরবরাহ করা হতো। পরে বাজারজাত শুরু করলে লাভের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাছ বিক্রি করে প্রায় ২২ লাখ টাকা আয় হয়েছে, যার মধ্যে মাছের খাদ্য, মোটর স্থাপন, শ্যালো মেশিনে পানি উত্তোলন এবং আধুনিক অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি জানান, লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন খামারটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
খামারের সাফল্যের পেছনে নারী উদ্যোক্তা সালেহা বেগম বকুলের আর্থিক সহায়তা ও অনুপ্রেরণার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ডা. খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ও আরও দু’জন সহযোগীকে নিয়ে নিয়মিত খামারের পরিচর্যা করি। বাজারের দামী খাদ্যের পরিবর্তে আমরা নিজ হাতে সম্পূর্ণ নির্ভেজাল ও হালাল উপকরণ দিয়ে মাছের খাবার প্রস্তুত করি, যা আমাদের খরচ কমাতে সহায়তা করছে।”
ভবিষ্যতে আরও পুকুর ও জলাশয় এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।