কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মৌসুমের শুরুতেই বজ্্রসহ ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে চার হাজার হেক্টর বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল নষ্টের চিন্তায় কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। শুধু বোরো ধানই নয়, তার পাশাপাশি ভুট্টারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলাসহ জেলা সদর, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, কটিয়াদী ও ভৈরবসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় চার হাজার হেক্টর বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জেলার হাওরাঞ্চলেই ক্ষতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ফলে এবার বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, গত ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি তারা দেখেননি। অনেক এলাকায় শিলার স্তূপে জমি ঢেকে যায়, ফলে ধানের শীষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
ইটনা উপজেলার নন্দী গ্রামের কৃষক গোলাম রহমান বলেন, “১১ একর জমিতে ভুট্টা ও ৩ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অন্তত ১০ লাখ টাকার ফসল পাওয়ার আশা ছিল। এখন খরচই উঠবে না।”
একই উপজেলার বলদা হাওরের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে আমরা শেষ হয়ে গেছি। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মিঠামইন উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির বোরো ধান। এছাড়া ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে ক্ষতির মাত্রা বেশি। চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।