× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

গজারিয়ায় সরকারি খাল দখলচেষ্টা: সংবাদের পর নড়েচড়ে বসলো প্রশাসন

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

২৫ মার্চ ২০২৬, ১৭:৫৯ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার উত্তর ফুলদী মৌজায় সরকারি খাল দখলের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের পরপরই নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। বাংলাদেশের খবর সহ একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার দল একাধিকবার জমির সীমানা নির্ধারণ, মাপঝোঁক ও ডিমার্কেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

সরকারি খালের জায়গা চিহ্নিত করে লাল নিশানাযুক্ত খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। অবৈধ নির্মাণকাজ পুনরায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পানশালেরচর মৌজার আরএস ০১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত আরএস ২৪৯ নম্বর দাগের রাস্তা শ্রেণির (বর্তমানে খাল শ্রেণিভুক্ত) সরকারি ভূমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে সার্ভেয়ার ও দখলদার পক্ষের আমিন উপস্থিত থেকে সীমানা নির্ধারণ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান দৈনিক বাংলাদেশের খবর-এর গজারিয়া প্রতিনিধি গাজী মাহমুদ পারভেজকে জানান, “সরকারি খাস জমিতে কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে সীমানা নির্ধারণ ও ডিমার্কেশন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাদের নামে লিখিত নোটিশ জারি করা হয়েছে, তারা হলেন, ১. মোস্তফা গং, পিতা: শহিদুল্লাহ, ২. দুলাল, পিতা: আয়েত আলী, ৩. মিজানুর রহমান, পিতা: আঃ রশিদ, ৪. সুরুজ মিয়া, পিতা: ইদ্রিস আলী, ৫. শহিদ, পিতা: আঃ মোতালেব, সকলেই পানশালেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, উক্ত সরকারি ভূমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে দখলে থাকা বিদ্যমান আইনের পরিপন্থি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হবে; অন্যথায় বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চলছে। টাকা-পয়সা লেনদেনের মাধ্যমেও কীভাবে জায়গাটি দখলে রাখা যায়, সে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) দ্বিতীয় ধাপে পুনরায় জায়গার মাপঝোঁক ও সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই দিনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার কথা থাকলেও একাধিকবার নোটিশ জারির পরও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়নি।

এখন প্রশ্ন—কেবল মাপঝোঁক ও খুঁটি স্থাপনের মধ্যেই যদি প্রশাসনিক উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকে, তবে দখলচক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। অতীতেও নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও পরবর্তীতে তা আবার শুরু হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে এবার কঠোর, দৃশ্যমান ও দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে সরকারি খাল পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উত্তর ফুলদীর দুলাল মার্কেট সংলগ্ন ব্রিজের পাশে সরকারি খালের জমি দখল করে একের পর এক স্থায়ী দোকান নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে খালের জায়গা দখলের চেষ্টা চলছিল।

সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও এখন প্রয়োজন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। প্রশাসনের চলমান পদক্ষেপ কতটা কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.