তেল দেওয়া হবে দুই লিটার—আর এজন্য একটি দোকানের সামনে সকাল থেকেই লম্বা লাইন। এক পর্যায়ে তা ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হয়। তবুও তেল চাই-ই চাই। ভিড় সামাল দিতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। ভিড় সামলে তেল দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীর। তেলের জন্য এমন হাহাকার পরিস্থিতি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে কটিয়াদী বাজারের মেসার্স দেবনাথ রাধানাথ রায়ের তেলের দোকানে তীব্র ভিড় দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেক মোটরসাইকেল চালককে।
গত তিন সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার থাকায় এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
তারা তেল সংকট নিরসনে প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
অপরদিকে বিভিন্ন পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, দৈনিক যে পরিমাণ তেলের চাহিদা রয়েছে, সরবরাহ পেলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু অসাধু খুচরা ব্যবসায়ী বেশি দামে তেল বিক্রি করায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং পাম্প মালিকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তারা দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পেট্রোল ও অকটেনের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে অনেক যানবাহন পেট্রোল না নিয়েই ফিরে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও চাকরির কাজে যারা মোটরসাইকেল নিয়মিত ব্যবহার করেন, তারা পড়েছেন বিপাকে। অনেকের পথের মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। পাম্পে একদিন কিছু সময়ের জন্য তেল পাওয়া গেলে আবার দুদিন থাকে বন্ধ।
এদিকে সংকটের সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কিছু খুচরা ব্যবসায়ী খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন প্রায় ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চালক মো. রনি বলেন, “দুই লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য এক কিলোমিটার লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে রয়েছি। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরেও কোথাও তেল পাচ্ছি না।”
মোটরসাইকেল চালক আজিজুল হক বলেন, “গ্রামের খুচরা ব্যবসায়ীরা তেল কোথায় পাচ্ছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। পাম্প থেকে তেল বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, সেটাও খুঁজে দেখা প্রয়োজন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমাদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।”
কটিয়াদী বাজারের মেসার্স দেবনাথ রাধানাথ রায় তেল দোকানের ব্যবসায়ী দেবাশীষ রায় পার্থ বলেন, “৩ হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছিলাম। তীব্র চাহিদার কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকেরা যেভাবে ভিড় করছেন, তাতে স্বাভাবিক তেল বিক্রি চালিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
