রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা একটি চুরির ঘটনা নস্যাৎ করে দুই চোরকে আটক করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময় এক আনসার সদস্য আহত হলেও সহকর্মীদের দৃঢ়তা, তৎপরতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার ফলে ঘটনাটি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, যা বাহিনীর নিরলস দায়িত্ববোধ ও সক্ষমতার প্রতিফলন।
গত ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি জানালার গ্রিল কেটে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে, অপর সহযোগী বাইরে অবস্থান করছিল। ভবনের ভেতরে প্রবেশের পর তারা পানির কল ভাঙার চেষ্টা করলে সৃষ্ট শব্দে ডিউটিরত আনসার সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।
ডিউটিরত এপিসি মো. কাওসার হোসেন এবং আনসার সদস্য মোঃ আজিজুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী হন। এ সময় এপিসি মোঃ কাওসার হোসেন চোরকে আটক করার চেষ্টা করলে এক দুর্বৃত্ত পানির কল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে, ফলে তিনি আহত হন। তবে সহকর্মীর ওপর হামলার পরও আনসার সদস্যরা অসীম ধৈর্য, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে উভয় চোরকে আটক করতে সক্ষম হন।
আহত এপিসি মো. কাওসার হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং মাথায় সেলাই দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— রেজাউল (২৯) এবং মো. রাতুল (১৯)। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের শেরেবাংলা নগর থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
শেরেবাংলা নগরের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আনসার সদস্যরা অটল সাহস, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা প্রস্তুত। এই ধরনের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া কেবল অপরাধ প্রতিরোধেই সহায়ক নয়, বরং জনমনে আস্থা বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার এবং আসন্ন উৎসবকেন্দ্রিক সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।