× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আয়োজন করলো শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পের ২য় ধাপের জাতীয় কর্মশালা

১৬ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪৭ পিএম

সুইডেন দূতাবাসের সহায়তায় ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ‘ওয়াশ ফর আরবান পুওর (ওয়াশফরআপ) দ্বিতীয় পর্যায়’ প্রকল্পের জাতীয় কর্মশালা আয়োজন করেছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। 

এপ্রিল ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের অর্জনসমূহ, শিক্ষণীয় বিষয়, প্রতিবন্ধকতাসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অভিমত তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের শুরু ও শেষের তুলনামূলক ফলাফল প্রদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশের শহুরে দরিদ্রদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিন) সেবা টেকসই ও সম্প্রসারণের অগ্রাধিকারমূলক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পলিসি সাপোর্ট অধিশাখার যুগ্মসচিব এবং অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, “আজকের এই আয়োজনে অনেক বিষয় উঠে এসেছে, সেটাই আমাদের পলিসিতে উঠে আসবে এবং পরবর্তীতে পলিসি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” 

অন্যান্য সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পরিবেশ ও জলবায়ু) এবং উন্নয়ন সহযোগিতার উপ-প্রধান নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সমাজকল্যাণ এবং বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান। নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রম বলেন, “ওয়াটারএইড-এর সঙ্গে আমাদের যে অংশীদারিত্ব রয়েছে, তা শুধু এই প্রকল্পের দুইটি ধাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় দুই দশক ধরে আমাদের ওয়াটারএইড-এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। আর বিশ্বের অনেক জায়গাতেই, বিশেষ করে সবার জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত এবং টেকসই পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে, আমরা ওয়াটারএইড-এর সহযোগিতায় কাজ করছি। আমরা এ বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিই যে, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাত কোনো বিচ্ছিন্ন কিছু নয়; বরং এতে এমন অনেক বিষয় ও উপাদান রয়েছে যা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল বা এর ওপর প্রভাব ফেলে এবং যেগুলো একসঙ্গে কাজ করলেই ওয়াশ খাতটি ভালোভাবে কার্যকর হতে পারে।”

মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান উল্লেখ করেন, “অবকাঠামো ও সেবা চলমান রাখার সাথে সাথে স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা চাই, ওয়াটারএইড যে কাজের মাধ্যমে আমাদের নগরকে আলোকিত করছে, তার পরিধি আরো বৃদ্ধি পাক।” 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান। হাসিন জাহান তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ওয়াটারএইড-এর কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর নিজস্ব অর্থায়নে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক ওয়াশ-আচরণ পরিবর্তনে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান সমূহের সমন্বয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বিত গবেষণা পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।” 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ও কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “নগর ওয়াশ-ব্যাবস্থাপনা ও পরিকল্পনায় নাগরিক সমাজের সাথে সামঞ্জস্য স্থাপন করায় গুরুত্বারোপ করার ক্ষেত্রে টেকসই নগর ওয়াশ-ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।”  এরপর প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনা প্রদান করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ও পলিসি অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ শেখ। পরবর্তীতে একটি উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি ও অ্যাডভোকেসি লিড ফয়জউদ্দীন আহমদ। 

অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, থিংক ট্যাংক, খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং এনজিও/আইএনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 


প্রকল্প সম্পর্কে কিছু কথা

শহরের বৈষম্য দূরীকরণ 

শহরাঞ্চলে সাধারণত উন্নত ওয়াশ সেবা রয়েছে বলে মনে করা হলেও, বস্তি ও অপরিকল্পিত বসতিগুলোতে বসবাসকারী শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্য বিদ্যমান। এসব জনগোষ্ঠী পানিবাহিত রোগ, অনুন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যার মতো পরিবেশগত ঝুঁকির চরম সম্মুখীন হয়। ওয়াশফোরআপ দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পটির পরিকল্পনা মূলত এই ওয়াশ-সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীগুলোর পরিবেশগত স্বাস্থ্য এবং সহনশীলতা উন্নত করার লক্ষ্যে করা হয়েছিল। এই উদ্যোগটি ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি পাইকগাছা, সখীপুর এবং সৈয়দপুর পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হয়েছে। 

প্রকল্পের প্রধান অর্জনসমূহ

বিদ্যমান ঘাটতিসমূহ মোকাবেলা এবং টেকসই শহুরে উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে প্রকল্পটি সফলভাবে বেশ কয়েকটি মাইলফলক অর্জন করেছে : 

৫০,০০০ মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পেয়েছে। 

৪৬,০০০ মানুষের জন্য উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। 

৯০,০০০ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধির ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। 

১৮,০০০ মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছে। 

ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (এফএসটিপি) মাধ্যমে ১৫,০০০ মানুষ নিরাপদে পরিচালিত স্যানিটেশন ব্যবস্থা থেকে উপকৃত হয়েছে। 

১৬,৫০০ মানুষকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। 

সাধারণ মানুষের দ্বারা পাবলিক স্যানিটেশন সুবিধাগুলোর ব্যবহারের সংখ্যা ৯.৫ মিলিয়নে পৌঁছেছে। 

ওয়াটারএইড সম্পর্কে

ওয়াটারএইড একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা, যা সবার জন্য সবখানে নিরাপদ পানি, মানসম্মত টয়লেট এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সংস্থাটি বিশ্বাস করে, এগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার যা দৈনন্দিন জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ হওয়া উচিত। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.