বান্দরবানের আলীকদম সরকারি দপ্তরের টেবিলে বসেই চলছে কমিশনের হিসাব—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলীকদম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও’র কেএম নজরুল ইসলাম বিরুদ্ধে। শুধু কমিশন নয় প্রকল্প বাস্তবায়নের নিজেই ঠিকাদারী করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ আছে, নয়াপাড়া ইউনিয়নের দুটি প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে কাজ করে ফেলেছেন পিআই ও। সেসব কাজের বিলও উত্তোলন করে ফেলেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিলেও ফাইল নড়ে না। কখনো কাগজপত্রে ত্রুটির অজুহাত, কখনো নতুন শর্তের বেড়াজাল।এইভাবে দিনের পর দিন ঘুরতে হয় আবেদনকারীদের। কিন্তু নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘কমিশন’ পৌঁছালেই ফাইলের গতি বদলে যায় আশ্চর্যজনকভাবে। প্রতিটি কাজের প্রকল্পে কমিশন হিসেবে নেন ১৫ শতাংশ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি প্রকল্প থেকে জনপ্রতিনিধিদের কাজ থেকে অফিসের নানা খরচ দেখিয়ে ১৫ শতাংশ করে নিচ্ছেন। কমিশন না দিলে কাজের বিল আটকিয়ে সহ নানা হয়রানি করা হচ্ছে। শুধু কি কমিশন - চলতি অর্থ বছরে গ্রামীন কাঠামো টিআর প্রকল্পের বরাদ্ধ ছিল পাঁচ লাখ টাকা। আলীকদমে নয়াপাড়া ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডের মেরিনচর পাড়া সোনে স্কুল রাস্তা মেরামত ও বুজিরমুখ পাড়া যাওয়ার রাস্তায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণ। এই দুটি প্রকল্পের নিজেই ঠিকাদার হয়ে বাস্তবায়ন করেছেন এই পিআইও কর্মকর্তা। শুধু তাই নয় এর আগেও সুনামগঞ্জে দিরায় উপজেলা থেকে সংযুক্তিতে ত্রাণ অধিদপ্তরের কর্মরত ছিলেন। পরে এই পিআইও বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের শাস্তিমূলক হিসেবে এক প্রকার বান্দরবান আলীকদমে বদলী করে দেন ত্রাণ অধিদপ্তর।
জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে, কাবিখা, কাবিটা, টিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিটি কাজের কমিশন হিসেবে ১৫ শতাংশ গ্রহন করে থাকেন। এর আগেও প্রায় ২৫ শতাংশ হিসেবে কমিশন নিতেন পিআইও। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে নিজেই কাজের বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশাসনের ভেতরে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক উপজেলার দুই ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি কাজে প্রায় ১৫ পার্সেন্ট কমিশন নিয়ে থাকে। কমিশন না দিলে কোন কাজ দিচ্ছে না। এর আগে ত ২৫ পার্সেন্ট নিত। এখন কমিয়ে দিয়েছে। তবে সেসব কমিশন বিষয়ে ইউএনও জানেন নাহ বলে তারা জানিয়েছে।
বান্দরবানে ঠিকাদার শামীম হোসেন জানান, উপজেলায় একটি প্যাকেজে দুটি ব্রীজ বরাদ্ধ ছিল। দুটি কাজে বরাদ্ধ ছিল প্রায় ১কোটি ৭০লাখ। একটি ব্রিজের নানা খরচ দেখিয়ে দশ লাখ করে দুটিতে বিশ লাখ টাকা আদায় করে নিয়েছেন পিআইও।
অভিযোগ বিষয়ে আলীকদম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও কেএম নজরুল ইসলাম সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, এবিষয়ে ফোনে মন্তব্যে কথা বলা ঠিক নাহ, বরংচ সরাসরি কথা বলব ভাই বলে মুঠোফোনটি কেটে দেন।
এবিষয়ে আলীকদম নির্বাহী অফিসার মঞ্জুর আলম জানান, পি আইও কমিশন বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। আর জনপ্রতিনিধিরা আমাকে জানাইনি। বিষয়টি খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
