চট্টগ্রাম-৫ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সীতাকুণ্ডের সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনা পুরো জাতিকেই মানসিকভাবে আঘাত করেছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের নৃশংসতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি এসব কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবগত আছেন এবং গভীরভাবে ব্যথিত। বিচার নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সাম্প্রতিক পৈশাচিক ঘটনার শিকার শিশুকন্যা ইরার পরিবারের খোঁজখবর নিতে সীতাকুণ্ডে তার বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন–এর পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার সাহস না পায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি এবং থাকবো।”
শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তারা যেন নিরাপদে তাদের স্বাভাবিক শৈশব-কৈশোর কাটাতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত রোববার সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় গলা কাটা অবস্থায় জান্নাতুল নাইমা ইরা (৭) নামে এক শিশুকে স্থানীয় জনগণ উদ্ধার করে। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল–এ ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রধান আসামি বাবু শেখ (৪৫) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে দূরে ইকোপার্ক এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তার গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করা হয় এবং মৃত ভেবে পাহাড়ে ফেলে রেখে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।