প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর ভাগ্নে ও বিশিষ্ট প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন-কে সদ্য নির্বাচিত সরকার গঠনে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-২ আসনে পরাজয়ের পরও স্থানীয় জনগণ, কর্মী-সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুহিনকে ঘিরে যে আবেগ, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন-আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে—তা রাজনীতির প্রচলিত জয়-পরাজয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনে পরাজিত হলেও যোগ্যতা, দক্ষতা ও দূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে জাতীয় পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকা উচিত।
স্থানীয়দের মতে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যার অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নন—এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে (টেকনোক্র্যাট) নিয়োগ দেওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। আর সেই সুযোগের আলোকে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে তুহিন সরকারের উন্নয়ন কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন বিশ্বাসই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
তাঁদের ভাষ্য, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরীর রয়েছে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারী দীর্ঘদিন ধরেই শিল্প ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরা ইপিজেড কেন্দ্রিক শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তুহিন।তবে ফলাফল ঘোষণার পর তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন মাত্রা যোগ করে রাজনৈতিক আলোচনায়।
“হেরে যায়নি তুহিন, হেরেছে নীলফামারী উন্নয়নের স্বপ্ন”—এই শিরোনামে দেওয়া আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি হিন্দু ধর্মালম্বী এবং দল-মত নির্বিশেষে সমর্থনকারী ভাইবোনদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। অল্প সময়ের মধ্যেই যেভাবে আমাকে আপন করে নিয়েছেন ও সমর্থন দিয়েছেন, তা কখনো ভোলার নয়। আপনারা নির্ভয়ে থাকবেন, আমি পাশে আছি এবং ইনশাআল্লাহ সবসময় পাশে থাকবো।”
এই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পোস্টটি শুধু সহমর্মিতাই নয়, বরং একজন পরাজিত প্রার্থীর মধ্যেও দায়িত্ববোধ, সম্প্রীতি ও উন্নয়নচিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে—এমন মন্তব্য করছেন অনেকেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তুহিনের এই অবস্থান তাঁকে একজন সম্ভাবনাময় টেকনোক্র্যাট হিসেবে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে সরকার গঠনে তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি কেবল আবেগনির্ভর নয়, বরং তা ক্রমেই বাস্তবসম্মত ও আলোচনাযোগ্য এক প্রস্তাবে রূপ নিচ্ছে।
পরাজয়ের গ্লানি ছাপিয়ে তাই আজ আলোচনার কেন্দ্রে একটাই প্রশ্ন—ক্ষমতার বাইরে থেকেও কি উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় দায়িত্বে যুক্ত হবেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন? সময়ই দেবে তার উত্তর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
