× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

এলজিইডির রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজে লুটপাট: ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এম. এইচ রুবেল, ঝিনাইদহ

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

ঝিনাইদহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর ঝিনাইদহ-কোটচাঁদপুর গ্রামীণ সংযোগ সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজে ফসলি জমি থেকে গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ফসল নষ্ট ও জমি গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

জানা যায়, উপজেলার পাগলাকানাই ও কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কড়ইতলা বিলের মাঠে রাস্তার দুই পাশের কৃষকদের ফসলি জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে গর্ত করে মাটি কেটে রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ওই গ্রামের একাধিক কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদিও এই কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাটি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। 


উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির ব্যবস্থাপনায় ‘সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ও রক্ষণাবেক্ষণকৃত অবকাঠামো প্রকল্প’-এর আওতায় সদর উপজেলার বানিয়াকান্দর বোরগী বটতলা হতে ডেফলবাড়ি মোড় পর্যন্ত ১৮৪৫ মিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ করার কাজে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ এর এপ্রিল পর্যন্ত। প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ঝিনাইদহ পৌর শহরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিসান বিল্ডার্স। ওই প্রকল্পে শুধু মাটি সরবরাহের জন্য ৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। 


চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাটির ব্যবস্থা করে রাস্তাটি প্রশস্ত করার কথা থাকলেও রাস্তার পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ফসলি জমি থেকে গভীর গর্ত করে মাটি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি আবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।


গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক কাশেম মিয়া বলেন, “আমরা রাস্তা চাই। কিন্তু উন্নয়নের নামে আমাদের ফসলি জমি শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমার ১০ শতক ফসলি জমির মধ্যে ১ শতক গর্ত করে রাস্তায় মাটি ফেলেছে। আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই।”


নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “রাস্তার দুই পাশের ফসলি জমি নষ্ট করে রাস্তার কাজ করেছেন ঠিকাদার। এখন সেই গর্ত ভরাট করতে গেলে আমাদের হাজার হাজার টাকার মাটি কিনতে হবে।” তিনি আরও জানান, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের সাথে ঠিকাদারের যোগসাজস রয়েছে। তা না হলে ঠিকভাবে কাজের তদারকি করেন না কেনো।


এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিসান বিল্ডার্সের প্রোপাইটার জাফর ইকবাল প্রিন্স বলেন, “কাজটি আমি পেয়েছিলাম, কিন্তু আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত কাজটি ঠিকাদার রুনু কাজীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। তবে ওই এলাকায় জমি গর্ত করা ছাড়া কাজ করার আর কোনো সুযোগ ছিল না।


এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলজিইডির সব সরকারি প্রকল্পের কাজের জন্য ব্যয় টেন্ডারে আগেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে প্রকল্পে মাটি সরবরাহের জন্য লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কৃষকের জমি কেটে নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।


স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকল্পে মাটি সরবরাহের জন্য লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কেন কৃষকের জমি কেটে নেওয়া হলো। তাদের দাবি, প্রকল্পের অর্থ যদি সঠিকভাবে ব্যবহার হতো তাহলে কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। তাদের দাবি এই ঘটনা শুধু কৃষকের ক্ষতি করেনি, বরং সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.