মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার শান্তিপুর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে চুরির পর এবার দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত একদিনের ব্যবধানে পরপর সংঘটিত এসব অপরাধে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে শান্তিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অদূরে একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থসহ দামী মালামাল লুটে নেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় এ ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের বাঘুলী সোনাটেংরা গ্রামের মুদি দোকানদার ফারুকের বাড়িতে হানা দেয় একদল ডাকাত। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। এ সময় ডাকাতদের সাথে পরিবারের সদস্যদের ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে এক ডাকাতের মুখের কাপড় খুলে গেলে তাকে বাড়ির লোকজন চিনে ফেলে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসী ওই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পরপর দুটি বড় অপরাধের ঘটনায় শান্তিপুর ও আশেপাশের গ্রামগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশি টহল জোরদার না থাকায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এত কাছে যদি চুরি-ডাকাতি হয়, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ থাকব?" এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
"এ বিষয়ে শান্তিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ডাকাতির ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাগুলো গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এলাকায় পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।"
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "আটক ব্যক্তিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।"