বান্দরবানের লামা উপজেলা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ (দফাদার) আলী আকবার এর বিরুদ্ধে অদৃশ্য ক্ষমতা দেখিয়ে চাককাটা (কুমারী) এলাকায় জোরপূর্বক জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকা সূত্রে জানা যায়, ফাঁসিয়াখালি ইউপির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) মো: রুবায়েত আহমদ। ফলে পরিষদের বিভিন্ন কাজেকর্মে দফাদার আলী আকবারকে পাশে রাখার সুবাদে নিজেকে ভিন্নভাবে জাহির করেন এলাকায়। যদিও আ.লীগের চেয়ারম্যান নূরুল হোসেনের ঘনিষ্ঠতায় দফাদার হিসেবে নিযুক্ত হন আলী আকবার। ছিলেন যুবলীগের একনিষ্ঠ কর্মীও।
কুমারী সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ২৮৬ নং ফাঁসিয়াখালী মৌজায় আর/২৮ নং হোল্ডিং এর আন্দর দুই একর ২য় শ্রেণি এবং এক একর ৩য় শ্রেণীর জায়গা ভুয়া কাগজ দেখিয়ে জোরপূর্বক দখল করে আছেন আলী আকবার। এই নিয়ে লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হলে ওয়ারেন্ট জারি হয় তার বিরুদ্ধে। পরে আপোষের কথা বলে জামিনে গিয়ে উল্টো বাদীপক্ষকে জানে মেরে ফেলা সহ বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিচ্ছেন আলী আকবর। এমনকি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অবৈধভাবে একই কৃষি জমিতে পুকুর খনন করছেন এসিল্যান্ড এর প্রভাব দেখিয়ে সে। পরে জানতে চাইলে এসিল্যান্ড এর সাথে কথা বলেন বলে ধমক দেয় সাংবাদিকদের এবং তার অবৈধ কৃতকর্ম নিয়ে এসিল্যান্ড নিজে অবগত আছেন বলে জানান আলী আকবার।
এবিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমদ বলেন, এধরনের অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। আমার নাম দিয়ে এধরনের কেউ করে থাকলে অপরাধ করেছে।
এদিকে লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মামলাধীন উক্ত জমির পরিমাপ করতে গেলে আদালতের প্রতিনিধিকে বারবার বাঁধা প্রদান করে আলী আকবার গং। যেটা একপ্রকার আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল।
উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে উক্ত জায়গার বিরোধ নিয়ে ১৮/০৫/২০১৪ ইং ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়ন পরিষদে অলী আকবার গংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়। মামলাটি ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান তদন্ত করে ১৫/০৬/২০১৫ ইং তারিখে লামা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সহায়তায় কানুনগো নজির আহমদ সরেজমিন গিয়ে আলী আকবার গংদের উপস্থিতিতে জায়গা পরিমাপ পরিচিহ্নিত করে সীমানা খুটি বসিয়ে দেয়ার পর থেকে ভোগদখলে থাকলেও বর্তমান ওয়ারিশদের পিতা মারা যাওয়ার পর পুনরায় দখলে নিয়ে যান আলী আকবার গং।