চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কেশবপুর এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে একাধিক পরিবার তাদের বসতঘর ও দোকানঘর হারিয়ে পথে বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ কয়েকটি পরিবার বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।
১৭ জানুয়ারি (শনিবার) দুপুর ১টায় ভুক্তভোগী সানি আক্তার (২৫)সহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে জানান, সিএস, আরএস ও পিএস খতিয়ান অনুযায়ী ৫৬৪ ও ৫৬৪/২ নম্বর দাগে প্রায় ৮১ শতক জমি তার শ্বশুরবাড়ির পূর্ব পুরুষ মো. আজগর আলীর নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ বছর ধরে বংশপরম্পরায় তারা উক্ত খতিয়ানভুক্ত জমিতে বসবাস করে আসছেন এবং সেখানে বসতঘর ও দোকানঘর নির্মাণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
তিনি বলেন, ভুলক্রমে উক্ত জমি বিএস খতিয়ানে বাংলাদেশ রেলওয়ের নামে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি সংশোধনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি—আহসান হাবিব, মো. আলমগীর ও মো. সাইফুল ইসলাম—যারা উক্ত জমির কোনো মালিক কিংবা ওয়ারিশ নন, তারা একটি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বড় যানবাহন চলাচলের রাস্তা নির্মাণের উদ্দেশ্যে পরিবারটিকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে জড়ান। বিভিন্ন সময় প্রলোভন দেখানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করায় ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ ও হয়রানি বাড়তে থাকে।
সানি আক্তার জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ উভয় পক্ষকে ডেকে কাগজপত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেয় এবং ওয়ারিশ সনদ দাখিল করতে বলা হয়। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহে বিলম্ব হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল—চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনো ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে না।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় বুলডোজার এনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঘরে অবস্থানরত নারী সদস্যদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয় এবং মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সদ্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করা এক নারীসহ কয়েকজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
উচ্ছেদ অভিযানে কামাল উদ্দিনের ৮টি বসতঘর, শেফালীর ২টি, তানজিনার ১টি এবং অন্তত ৫টি দোকানঘর সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়। এতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পরিবারটির দাবি। একই সঙ্গে ঘরের ভেতরে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান আসবাবপত্র লুটপাটের অভিযোগও করা হয়েছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দ্রুত আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মানবিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. আফসার উদ্দিন, লাকি আক্তার,মো. কামাল উদ্দিন, বিবি হাজেরা, সানি আক্তার, তাসলিমা আক্তার, মো. জাফর, মো. শাহাব উদ্দিন, মো. কামাল উদ্দিন, মো. নাজিম উদ্দিন।
তারা সবাই জানান, উক্ত সম্পত্তি তাদের পূর্ব পুরুষ মো. আজগর আলী ও আমিনুর রহমানের এবং উপস্থিত সবাই তাদের বৈধ ওয়ারিশ।