ছবি: সংবাদ সারাবেলা
কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়ক এলাকার একটি ধর্মীয় মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্গ পাহাড় এলাকায়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জমির মালিক রাজীব শর্মা (৩৫), মন্দিরের পূজারী মিটন দাশ (৩১) এবং টিনা দাশ নামের এক নারী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাজীব শর্মা বাদী হয়ে রায়হান জিয়া ও মো. সিরাজসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাজীব শর্মা তার মালিকানাধীন ৪ গণ্ডা জমি উন্নয়নের জন্য ‘এসআরসিএম ডেভেলপার অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ না করে প্রতিষ্ঠানটি তার অবশিষ্ট জমি, বসতভিটা ও মন্দিরের জায়গা দখলের চেষ্টা শুরু করে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে ডেভেলপার কোম্পানির ভাড়াটিয়া লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। এতে বাধা দিলে রাজীব শর্মাকে জাতিগত গালিগালাজ করে কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করা হয়, এতে তার বাম পায়ের হাড় ভেঙে যায়।
এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মন্দিরের পূজারী মিটন দাশকে ধাওয়া করা হয়। তিনি মন্দিরে আশ্রয় নিলে আসামি মো. সিরাজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন, এতে তার মাথার খুলি গুরুতরভাবে জখম হয়। হামলাকারীরা মন্দিরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া টিনা দাশ নামের এক নারী এগিয়ে এলে তাকেও শ্লীলতাহানি ও মারধর করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাজীব শর্মাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) রেফার করা হয়।
ভুক্তভোগী রাজীব শর্মা অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। জাসদ নেতা নুরুল আলম ও রায়হান জিয়াসহ একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই হামলায় জড়িত।” তিনি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের যৌথ অভিযান দাবি করেন।
এদিকে তপন শর্মা জানান, হামলার পর থেকে অভিযুক্তরা নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রায়হান জিয়া পক্ষ দাবি করে, উক্ত জমি তাদের কোম্পানির মালিকানাধীন এবং অভিযোগকারীরাই সেখানে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। একক ও যৌথভাবে অভিযান চালানো হবে।”
সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
