লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর–ভেলাবাড়ী সড়কের কালীরহাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর নির্মিত একটি সরু সেতু এখন এলাকাবাসীর জন্য নিত্যদিনের আতঙ্কের নাম। প্রায় তিন যুগ আগে ১৯৯৩ সালে নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
দুর্গাপুর ও ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন দুটি কৃষিনির্ভর এলাকা। এই দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের কৃষিপণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সড়ক ও সেতুটি। প্রতিদিন ধান, চাল, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য নিয়ে ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলির মাধ্যমে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় সেতুটির রেলিং ও পিলার ভেঙে পড়েছে। অনেক স্থানে কংক্রিটের অংশ উঠে গিয়ে রড বের হয়ে আছে। সেতুটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় একপ্রান্ত দিয়ে একটি গাড়ি উঠলে অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অন্য গাড়িকে। এতে প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হতে হয়। অনেক সময় ভয়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের একা চলাচল করতে দিতে চান না।
কলেজ শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার বলেন, “সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন বুকের ভেতর ভয় নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আলম বলেন, “সেতুটির ডিজাইন কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।”
ব্যবসায়ীদের মতে, সেতুটি দ্রুত প্রশস্ত করে পূর্ণনির্মাণ করা হলে কৃষিপণ্য দ্রুত জেলার বাইরে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এতে যেমন কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে, তেমনি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।
এলাকাবাসীর দাবি—আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে এই মৃত্যুফাঁদ সেতুটি ভেঙে নতুন ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণ করা হোক।