× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সড়কে ঝরে গেল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নয়ন

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি |

১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা

মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হার মানল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নয়ন চন্দ্র রায় (১৭)। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ফকিরের মোড় এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ও গরুবোঝাই নসিমন (ভটভটি)-এর মুখোমুখি সংঘর্ষে মারাত্মকভাবে আহত হয় নয়ন। দুর্ঘটনার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিল।

নিহত নয়ন চন্দ্র রায় সদর উপজেলার হরতকিতলা এলাকার বাসিন্দা চিরঞ্জিত চন্দ্র রায়ের একমাত্র পুত্র। পরিবারের একমাত্র আশার প্রদীপ নিভে যাওয়ায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার নীলফামারী শহরের দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল বিপরীত দিক থেকে আসা গরুবোঝাই নসিমনের সঙ্গে ফকিরের মোড় এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় নয়ন।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়নের অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মারাত্মক ইনজুরি নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল খালেক মাসুদ বলেন, “দুর্ঘটনার পর নয়নের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। আমরা সময় নষ্ট না করে দ্রুত সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে রংপুরে পাঠানো হয়।” নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও গরুবোঝাই ভটভটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর ভটভটির চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। একমাত্র সন্তান হারিয়ে পিতার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্থানীয়রা বলছেন, এই সড়কে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল ও বেপরোয়া গতিই বারবার প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। তারা দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ নসিমন চলাচল বন্ধ এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের জোর দাবি জানিয়েছেন।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.