ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার শেষ সীমানায় পাবনা, ঈশ্বরদী, বাঘা, লালপুর, রাজশাহীর জিরো পয়েন্টের গহীন চরের মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঘটছে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা, এসব হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে অনেক সাধারণ মানুষ হয়রানি মূলক মামলায় ফেঁসে যাচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন সময় পুলিশ সহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এসব হত্যাকাণ্ড রোধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র,গুলি, মাদক সহ কিছু দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করলেও কোনভাবেই চরাঞ্চলে থামানো যাচ্ছে না সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা।
এরই ধারাবাহিকতায় (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সোহেল রানা।
সোহেল রানা পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরের কালু মণ্ডলের ছেলে। এ সময় তার স্ত্রী সাধিনা বেগমের ডান হাতের আঙুলে গুলি লাগে এবং তিনিও আহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে সোহেলকে গুলি করে হত্যা করেছে।
একাধিক তথ্যে উঠে এসেছে বাঘার বিল্লাল ও মুনতাজ বাহিনীর সদস্যরা পূর্বশত্রুতা কিংবা কোনো মামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী পদ্মার চরের নীচ খানপুরের হবিরচরের দক্ষিণে চৌদ্দ হাজার মাঠে খড় কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে খানপুরের মিনহাজ মণ্ডলের ছেলে আমান মণ্ডল (৩৬) এবং একই গ্রামের শুকুর মণ্ডলের ছেলে নাজমুল হোসেন (৩৩) নিহত হন। পরদিন ২৮ অক্টোবর হবিরচর থেকে কুষ্টিয়ার লিটন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় দুটি পৃথক মামলা হলে দৌলতপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করে। অভিযোগ আছে এসব হত্যাকাণ্ডের পরে মূল আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতেই হত্যা পরবর্তী নিজেদের লোকজন দিয়ে কিছু মুখস্ত নাম ছড়িয়ে দেয় এবং প্রশাসন সহ রাষ্ট্রের সমস্ত অর্গানগুলো হুমরি খেয়ে পড়ে সেই নামের উপরে। তেমনই একজন দৌলতপুরের ইঞ্জিনিয়ার কাঁকন।
সোহেল হত্যাকাণ্ডে বাঘা থানায় আট জনকে আসামি ও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে সোহেলের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন যেখানে দৌলতপুরের ইঞ্জিনিয়ার কাঁকন এর নাম না থাকলেও কতিপয় একটি চক্র ঢালাওভাবে কাঁকনের নাম উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডের সমস্ত দায়ভার তার উপর চাপানোর চেষ্টা করে আসছে।
সোহেল হত্যাকাণ্ডে দৌলতপুরের কাঁকনের নাম কেন আসছে-এ বিষয়ে জানতে অনেক চেষ্টায় কাঁকনের ঘনিষ্ঠ একজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, বিল্লাল ও মুনতাজ বাহিনী বাঘার স্থানীয়। ভবিষ্যতে হামলার আশঙ্কায় নিহত সোহেলের স্বজনরা তাদের নাম প্রকাশ করছেন না। আর চরে কোনো ঘটনা ঘটলেই কাঁকন কে দোষারোপ করলে আর কিছু করতে হয় না।
এদিকে সোহেল রানাকে গুলি করার ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটায় কেউ কাউকে চিনতে পারেনি। এছাড়া দুর্বৃত্তরা এলাকায় ঢুকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সোহেলের বাড়িতে ঢুকে তার নাম ধরে ডেকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে গুলিটি তার কোমরের ওপর পেটে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহেলের মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরে গোলাগুলিতে বাঘার বাসিন্দা নাজমুল ও আমান এবং কুষ্টিয়ার লিটনের মৃত্যুর পর পদ্মার চরের ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম ব্যাপক আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় প্রশাসনের ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানে কয়েক দফায় ২০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অস্ত্র উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার পদ্মার চরে ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এসব বাহিনীর নৃশংসতায় চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে রয়েছে। অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে-মণ্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ বাহিনী ও নাহারুল বাহিনী।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৌলতপুরের ইঞ্জিনিয়ার কাঁকন এর ঘনিষ্ঠ আরেকজন মুঠোফোনে বলেন, মুনতাজ ও বিল্লাল মাদক ব্যবসায়ী। এর আগে চরের খড় কাটাকে কেন্দ্র করে রাইটা এলাকার মানুষের সঙ্গে যে মারামারি হয়েছিল, সেই ঘটনার সময় বা তার আগেই বিল্লাল-মনতাজের সঙ্গে নিহত সোহেলের আরেকটি হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলার বিরোধ ছিল। এই ঘটনাটি বিল্লাল মুনতাজ রাই ঘটিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে হবিরচরের ঘটনা কিংবা বালু ব্যবসায়ী বা কাঁকনের কেউ জড়িত নয়।
তিনি আরও বলেন, বিল্লাল ও মুনতাজের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পূর্বের মামলা বা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বালু ব্যবসায়ী কাঁকনের ওপর দায় চাপাতে চায়। মিডিয়া সহজেই বিষয়টি গ্রহণ করে। এরা ব্ল্যাকার ও মাদক চোরাকারবারি। মাঝখানে বালিঘাট থাকায় তারা অবাধে মাদক পাচার করতে পারে না। সড়কপথে গেলে পুলিশে ধরা পড়ার ঝুঁকি থাকে। নদীপথেও সহজে যেতে পারে না। এই কারণেই বিরোধের সূত্রপাত। কাঁকন এসব অপকর্ম করেন না, তিনি একজন ভদ্র ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে বাঘা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানান, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি জোর তৎপরতা চলমান রয়েছে। তিনি আরো জানান বাদীর দেওয়া এজাহারের নামগুলো ছাড়াও এর সাথে যদি অন্য কেউ সম্পৃক্ত বা জড়িত থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে নেয়া হবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
