দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় হয়নি সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়কের উন্নয়ন। ফলে নামমাত্র জোড়াতালি আর পুটিং করে চলছিল দীর্ঘ এই সড়কটি। ফলে চারটি উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এই সড়কের বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। এদিকে দীর্ঘ ভোগান্তির অবসানের আশা দেখায় সড়কটি উন্নয়ণ কাজ শুরু হওয়ায়। কিন্তু তা চলছে ব্যাপক ধীরগতিতে।
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য মতে, সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের এই বৃহৎ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৬২.৩২৫ কিলোমিটারে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৫৬৫কোটি টাকা। যার মধ্যে লাবনী মোড় থেকে বাঁকাল চেকপোস্ট, বাঁকাল চেকপোস্ট থেকে পারুলিয়া গরুরহাট, পারুলিয়া থেকে হাদীপুর, নলতা হাদীপুর থেকে কালিগঞ্জ ফুলতলা, কালিগঞ্জ ফুলতলা থেকে শ্যামনগর মহসিন কলেজ, শ্যামনগর মহসিন কলেজ থেকে ভেটখালি সম্প্রসারণ করা হবে সড়কটি। প্রকল্পটির কার্যাদেশে বলা আছে, ৩০জুন ২০২৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। যদিও প্রকল্পের মোট মেয়াদ পাঁচ বছর, ইতোমধ্যেই তিন বছর অতিক্রম হয়েছে।
‘সাতক্ষীরার আকর্ষণ, সড়ক পথে সুন্দরবন’ স্লোগান থাকা সত্ত্বেও সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়কের বেহাল দশা চলছেই। আগের সরকারের সময় একবার এই সড়কটি একনেকে পাস হয়েছিল, তবে এরপর আর কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে খানাখন্দ এত বড় হয়েছে যে, সড়কটি চলাচলের জন্য একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা শ্যামনগর ও সুন্দরবনের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ঠিক রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, আলিপুর বাজার, আলিপুর শ্মশান, কুলিয়া সহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৬টি স্থানে ইটের সোলিং করে চলাচলের ব্যবস্থা নিয়েছে। পাকা রাস্তার ওপর ইটের সোলিং করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলছেন অনেকেই।
পথচারী গোলাম সরোয়ার, আয়ুব হোসেন, আব্দুস সালাম সহ অনেকে বলেন, দীর্ঘ সময় পর সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়কের কাজ শুরু হলেও তা ধীরগতি হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠারগুলোর জনবল কম থাকায় রাস্তায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু স্থানে মাটি খুঁড়ে রাখায় ধুলায় ভর্তি হয়ে পড়ছে সড়কটি। দ্রুত সময়ে কাজ শেষ না হলে ভোগান্তির শেষ থাকবে না বলেও জানান তারা।
চালক মিলন হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, হযরত আলী বলেন, একদিকে রাস্তা খারাপ আর অন্যদিকে খোঁড়া খুঁড়ি চলছে। এতে দিনের বেলা যানজট হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সঠিক সময় যাত্রী ও মালামাল পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। যদি ঠিকাদারের লোক রাতের বেলা বেশি জনবল দিয়ে কাজ করেন তাহলে জনভোগান্তি কম হবে।
এদিকে, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ দুর্ভোগ কমানোর আশ্বাস দিয়ে বলেন, সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়কের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের এ সংস্কার কাজ আগামী জুন মাসে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও আরও এক বছর লেগে যেতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2025 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
