এক সময়ের শহর আর গ্রামের ব্যস্ততম বাহন ছিল ঠেলা গাড়ি। শাকসবজি, ফল-মূল, ইট-বালি থেকে শুরু করে ভারী মালামাল পরিবহনের জন্য এটি ছিল অতি পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু কালের বিবর্তনে, আধুনিক যানবাহনের দাপটে এই গাড়িটি কি আজ বিলুপ্তির পথে?
কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি ঠেলা গাড়ি:
শহরের অলিগলিতে এখন আর আগের মতো ঠেলা গাড়ির ভিড় দেখা যায় না। এক সময় ঢাকার গলিপথে বা চট্টগ্রামের বন্দরে অসংখ্য ঠেলা গাড়ি মালামাল বহন করত। কিন্তু এখন সেসব জায়গায় ছোট ট্রাক, পিকআপ, আর অটোরিকশার আধিপত্য। একদিকে ট্রাফিক নিয়ম কঠোর হচ্ছে, অন্যদিকে দ্রুত গতির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। ফলে ঠেলা গাড়ির কদর কমে যাচ্ছে দিন দিন।
ঠেলা গাড়ি শুধু একটি বাহন নয়, এটি হাজারও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার মাধ্যম। কিছুদিন আগে কাজের সুবাদে চট্টগ্রাম গেলে একজন ঠেলাগাড়ি চালক দিনমজুর রফিক মিয়া সাক্ষাতে বলেন, আমি গত ২০ বছর ধরে ঠেলা গাড়ি চালাচ্ছি, "আগে দিনে ৫-৬টা ট্রিপ দিতাম, এখন বড়জোর ২-৩টা হয়। আগে মানুষ ঠেলা গাড়ি ডাকত, এখন সবাই ভ্যান বা ট্রাকে মাল পাঠায়।"
আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিবর্তন:
বাজারে এখন ব্যাটারিচালিত ভ্যান বা ই-রিকশার চাহিদা বেড়েছে। কম খরচে দ্রুত চলতে পারার কারণে অনেকে সেদিকে ঝুঁকছেন। ফলে কায়িক শ্রমনির্ভর ঠেলা গাড়ি আর আগের মতো লাভজনক নয়।
তবে এখনো কিছু এলাকায় ঠেলা গাড়ির ব্যবহার দেখা যায়, বিশেষ করে গ্রামীণ বাজারে, যেখানে বড় গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। কিছু মানুষ এখনো বিশ্বাস করেন, ঠেলা গাড়ির মতো শক্তিশালী বাহনের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন।
তবে কি বিলুপ্তি, নাকি নতুন রূপে ফিরে আসবে?
প্রশ্ন উঠেছে, ঠেলা গাড়ি কি সত্যিই হারিয়ে যাবে? নাকি এটি আধুনিকতার ছোঁয়ায় নতুন কোনো রূপে ফিরে আসবে?
একটি সময় ছিল, যখন এই ঠেলা গাড়িই ছিল শহরের রক্তচলাচল। হয়তো একদিন প্রযুক্তির সঙ্গে মিশে এটি আবার ফিরে আসবে, এক নতুন রূপে। কিন্তু তার আগেই, কি আমরা একে বিদায় জানাতে চলেছি?