× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা জামায়াত বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মাদারীপুরে দুর্নীতির অভিযোগে মিজানের বিরুদ্ধে আদালতে দুদকের চার্জশিট দাখিল

মাদারীপুর প্রতিনিধি।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:৪৭ পিএম

ছবিঃ সংগৃহীত।

মাদারীপুরে দুর্নীতির অভিযোগে মো: মিজানুর রহমান ফকির নামে এক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক মাদারীপুরের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে (২৪ ফেব্রæয়ারি) বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে (জেলা ও দায়রা জজ আদালত) এ চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ফকির (৫৩) রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক। বর্তমানে তিনি মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত। মিজানুর রহমান ফকির মাদারীপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পাঠককান্দি এলাকার মো: কিনাই ফকিরের ছেলে। সহকারী পরিচালক মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদকের দাখিলকৃত চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, মো: মিজানুর রহমান ফকির ৫৩ লাখ ২০ হাজার ৭৪৭.৫২ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখল করছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া আসামি ৫৬ ছাপ্পান্ন লাখ ৮০ হাজার ৯৭০.০৭ টাকার সম্পদের তথ্য অসদুদ্দেশ্যে গোপন রেখে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন।

দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা অর্জন করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। অন্যদিকে আলামত ও রেকর্ডপত্র মোতাবেক (দুদক) আরো জানতে পারে যে, আসামি মো: মিজানুর রহমান গাড়ী ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি গাড়ী ক্রয়ের ব্যবসা করেছেন বলে তিনি নিজে তার বক্তব্যে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

তার গাড়ী ব্যবসার থেকে প্রাপ্ত ১২ লাখ ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা আয় করেছেন। যেহেতু তিনি একজন সরকারি কর্মচারি হিসেবে গাড়ী ব্যবসা করার কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি গণকর্মচারী (আচরণ), ১৯৭৯ এর বিধি-১৭ ধারায় এ বিষয়ে বলা আছে যে, কোন সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সরকারি কার্য ব্যতীত অন্য কোন ব্যবসায়ে জড়িত হতে অথবা অন্য কোন চাকরি বা কাজ করতে পারবেন না। তিনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম-নীতি ও চাকুরীকালীন বিধি-বিধান মানতে বাধ্য।

আসামি একইভাবে গণকর্মচারী আচরণ, ১৯৭৯-এর বিধি-১১ ধারা বিষয়ে বলা আছে যে, কোন সরকারি কর্মচারী ২ লাখ ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকার অধিক মূল্যের কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিভাগীয় প্রধান বা সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। তিনি ১৯৭৯ এর বিধি-১২ ধারা (ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্লাট ইত্যাদি নির্মাণ অথবা ক্রয়) বিষয়ে বলা আছে যে, কোন সরকারি কর্মচারী আবেদনের মাধ্যমে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ ব্যতিরেকে ব্যবসায়িক স্বার্থে নিজে বা ডেভেলপারের মাধ্যমে ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্লাট ইত্যাদি নির্মাণ করাতে বা ক্রয় করতে পারবে না। তিনি তা লঙ্ঘন করেছেন।

তাছাড়া আসামি নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভিপি/অর্পিত সম্পত্তি কেস নম্বর : ঢওও-ঠচ-১২৮/৭৩-৭৪ নং লীজ কেস মূলে ০.১৪০০ একর সরকারি (ভিপি) সম্পত্তি আইন বহির্ভূত বরাদ্দ নিয়ে ভোগ-দখল করছেন। ভিপি বা অর্পিত সম্পত্তি আইন মোতাবেক যে শহরে লীজ গ্রহীতার নিজস্ব বাড়ি বা জায়গা রয়েছে এবং তাকে ওই শহরের অর্পিত সম্পত্তির কোন বাড়ি বা জায়গা লীজ দেওয়া যাবেনা এই ধরনের পূর্ব লীজ গ্রহীতার লীজ বাতিল করা যাবে। আসামি সজ্ঞানে তা লঙ্ঘন করে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য ভিপি সম্পত্তি আইন বহির্ভূত লীজ বরাদ্দ নিয়ে বাউন্ডারি দরজা-ঘর নির্মাণ করে ভোগ-দখল করছেন।

দুদক আরো উল্লেখ করেছে, ‘অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের স্মারক নং-৩১০৯৪ তারিখ ২৪/০৮/২০২৩ খ্রি. জেলা প্রশাসক. মাদারীপুর এর স্মারক নং-১৭১ তারিখ:১৩/০৮/২০২৪ খ্রি. তার লীজ বাতিল করে কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসামি একজন আইন অমান্যকারী এবং একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য ব্যবসা এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছেন।’

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2025 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.