গোয়াইনঘাটে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃষক বিলাল মেম্বারের সূর্যমুখী ফুলের বাগান।
গোয়াইনঘাট সালুটিকর প্রধান সড়কের কাছেই পাইকরাজ গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান সড়কের ধার ঘেঁষেই নজরকাড়া সূর্যমুখী ফুলের হলুদ আঙিনা। শীতের কঠোরতা পেরিয়ে বসন্তের হিমেল হাওয়ায় ভোরের সূর্য উঁকি দিয়ে এই সূর্যমুখী ফুলেরা জেগে ওঠে। আর সেই হলুদ ফুলের হাসিতে নিজেদের বৈকালীন সময় কাটাতে এখানে ছুটে আসেন স্হানীয় ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘুরতে আসা প্রকৃতিপ্রেমী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,গোয়াইনঘাট উপজেলায় দিনেদিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সূর্যমুখীর চাষ। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আবাদ। উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের কৃষক বিলাল মেম্বারের চার বিঘা জায়গাজুড়ে রোপণ করা হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের বীজ। এখন প্রতিটি গাছে ফুল ফুটেছে, যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন। দুপুরের পর থেকেই সূর্যমুখী বাগান নানা বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সূর্যমুখী ফুলের এ বাগানটি এখন সৌন্দর্যপ্রেমীদের কাছে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
গোয়াইনঘাট কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখীর চাষাবাদ শুরু হয়েছে। কৃষক বিলাল মেম্বারের এ বাগানে প্রায় চার বিঘা জমিতে এবার সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়েছে। এখান থেকে ৪৫-৫০ মণের মতো বীজ উৎপন্নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূর্যমুখী ফুলের এ বাগানে সকাল থেকেই দেখা যায় মানুষের আনাগোনা। প্রতিদিনই এই হলুদ হাতছানিতে শামিল হয় শতশত প্রকৃতি প্রেমী। উপজেলা কৃষি অফিস জানায় এবার উপজেলার ১২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ হয়েছে। উপজেলার ৯০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। বীজ সংগ্রহ করার আবাদে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হওয়ায় কৃষকরা সূর্য মুখী আবাদে উৎসাহিত হয় না। যে কয়জন কৃষক সূর্যমুখী চাষ করে তারা সরকারি প্রণোদনা পেলে করে।
সহকর্মীদের নিয়ে ঘুরতে আসা জেলা প্রশাসন কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বলেন,সূর্যমুখী ফুলের বাগান ঘুরে দেখলাম। সহকর্মীদের সঙ্গে ছবি তুললাম। বেশ ভালো লাগলো। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অবলোকনে শুধু প্রকৃতিপ্রেমীই নয় বরং যে কারও হৃদয় কাড়বে। স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলে রাখলাম। খুব ভালো সময় কাটলো। বাগানে প্রবেশ করলেই মনে হবে, হলুদের আভায় চারিদিকেই যেন ছড়িয়ে আছে অপার মুগ্ধতা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, সূর্যমুখী চাষ একটি লাভজনক শস্য। সূর্যমুখী তেলের রয়েছে নানাবিধ স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ। দিনেদিনে সূর্যমুখী বীজের তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর চাষাবাদ জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। চাষিদের আগ্রহী করার পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণ, বীজসহ নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে