মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘মাছের মেলা’। প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে সংক্রান্তির আগের দিন এই এই মেলার আয়োজন করা হয়।
উপজেলার কুলাউড়া এবং ব্রাক্ষনবাজার মাছের মেলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাছের আড়ৎদাররা মাছ নিয়ে এসেছেন। মজুত করে রাখা হয়েছে ছোট-বড় নানা জাতের মাছ। সারিসারি সাজানো আছে বোয়াল, আইড়,বাঘা, চিতল, কাতলা, রুইসহ বড় আকারের বিভিন্ন ধরনের মাছ।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় , এই মাছের মেলাকে কেন্দ্র করে মাছ ব্যবসায়ীরা অনেক আগে থেকেই কে কত বড় আকৃতির মাছ মেলায় উঠাতে পারেন এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করে রাখেন । স্থানীয় হাওর এবং মাছের খামার ছাড়াও নওগাঁর মান্দা, পাবনা, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জও ঢাকা থেকে মাছ আনা হয়।

এছাড়া, মৌলভীবাজারের হাকালুকি, কাওয়াদিঘি, হাইল হাওর ও মনু, ধলই, কুশিয়ারা নদীসহ বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন হাওরের মাছের উপর নির্ভর করে প্রতি বছরই বসে এ মেলা। মৎসজীবীরা এই মেলায় মাছ বিক্রির জন্য পাঁচ-ছয় মাস আগে থেকেই বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। এই মাছগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় পানিতেই বাঁচিয়ে রাখা হয়।
ব্রাক্ষনবাজার মাছের মেলায় মাছ কিনতে যাওয়া এক ক্রেতা বলেন, ‘আমি সবসময় এখানে মাছ কিনতে আসি। মেলা উপলক্ষে ১০ হাজার টাকার মধ্যে একটি মাছ কিনতে এসেছি।

জনি নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে দেখলাম ৪০ হাজার টাকার বাঘ মাছ উঠেছে। শুনেছি ২৫ হাজার টাকা দাম হয়ে গেছে। দেখি কি করা যায়। যদি কিছু কম নেন তাহলে এটা নিয়ে নেব।’
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সন্ধার পর থেকে মানুষের ঢল নেমেছে মাছের মেলায়। ব্যবসায়ীরা জানান,এখন মানুষ শুধু মেলা দেখতে বেশি ভিড় জমাচ্ছেন। রাত বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতাদের আগমন বাড়বে বলে ধারনা করছেন।