× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হারিয়ে যাচ্ছে সোনারগাঁয়ের ছোট খাল নদ-নদীগুলো

মো. আল আমীন প্রধান, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:২৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মারিখালী নদী,নাগেরগাঁও মৃধাকান্দি নদী,আশারিয়াচর নদী,ঝাউচর নদী,ছয়হিস্যা মনাইকান্দি খাল ও নদী।এমনভাবে অসংখ্য খাল নদ- নদী রয়েছে সোনারগাঁয়ে।এসব খরস্রোতা এই খাল নদ- নদী পথে সুলতানি আমলে বণিক ও ধনীরা মেঘনা নদী থেকে বরজা, গয়না বা বড় নৌকায় করে ঐতিহাসিক পানাম নগরীতে যাতায়াত করতেন। এই নদী এখন বিলীন হওয়ার পথে। 

দূষণে দখলে আর নাব্যতা সঙ্কটে বর্তমানে বিলীন হওয়ার পথে এই খাল নদীগুলো। জানা যায়, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের মেঘনা নদীর কোলঘেঁষে শুরু করে সোনারগাঁ পৌরসভা, পিরোজপুর, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেকের ঐতিহাসিক হাটের পাশ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে ও মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশেছে এই নদীগুলো। উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বৃষ্টির পানি খাল ও নদীগুলোতে গিয়েই পড়ে।

দূষণে দখলে দীর্ঘ এ খাল ও নদীগুলোর সেই আগের রূপ যৌবন এখন আর নেই। খাল ননদ-নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। এ দিকে নদ- নদীগুলোর ওপর দিয়ে যাতায়াতের সুব্যবস্থা করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বহু সেতু নির্মাণ করেছে। কিন্তু নদীর ওপরে নির্মিত সেতুগুলো পর্যাপ্ত উচ্চতায় নির্মাণ না করায় বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধি পেলে মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রলার লঞ্চ ও স্টিমার যাতায়াত করতে পারে না। নদীর পানি দূষণের ফলে বিপর্যয়ের পড়েছে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জিয়ানগর, ভবনাথপুর, বিরেশেরগাঁও, রতনপুর, ভাটিবন্দর, মরিচাকান্দী, জৈনপুর, হাবিবপুর, পিরোজপুর, কাদিরনগর, দুধঘাটা,মঙ্গলেরগাঁও,নাগেরগাঁও, মৃধাকান্দি, ছয়হিস্যা, আষাড়িয়াচর,ঝাউচর কাজিরগাঁও, দুর্গাপ্রসাদ, চৌধুরীগাঁও, ময়নায়েরকান্দী, টেকপাড়া, মুগারচর, কাবিলগঞ্জ, আলাবদী, নালআলাবদী, বিন্নিপাড়া, ঋষিপাড়া, দমদমা, খুলিয়াপাড়াসহ কমপক্ষে ৪৫ টি গ্রামের লক্ষাধিক বাসিন্দা। কল কারখানার বর্জ্য ফেলার কারনে বিভিন্ন সময়ে তারা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

পিরোজপুর ইউনিয়নের নাগেরগাঁও  গ্রামের তাছলিমা জানান, এই এলাকায় বড় হয়েছি। ছোটবেলায় এ নদী গোসল করতাম। খাল-নদীর পানি রান্নার কাজে ব্যবহার করতাম। নদীর দু'পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য পড়ে নদীটিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে ফেলছে। এর ফলে এখন আর এই নদীর পানিতে গোসল করা দূরে থাক, পানি গায়েও লাগানো যায় না। এ পানি গায়ে লাগলে চুলকানি হয়। সোনারগাঁও পৌরসভার  ভবনাথপুর গ্রামের আঃ ছাত্তার বলেন, এ নদী দিয়ে বড় বড় ট্রলার চলতে দেখেছি। এখন দু'পাশের প্রভাবশালীদের দখলের কারণে নদী আর নদী নেই। মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ গ্রামের রাসেল জানান, কয়েক বছর আগেও এ নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। দূষণের কারণে এখন আর মাছ পাওয়া যায় না। 

শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এসব খাল নদ-নদীর পানি কমে গিয়ে সেগুলো শাখা-প্রশাখায় ভাগ হয়ে এখন সরু আকার রূপ নিয়েছে। আকস্মিক পানি শূন্যতায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা নৌলার ঘাটগুলোর অস্তিত্ব এখন বিপন্ন। ইতোমধ্যে অনেক নৌঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে নৌ চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। অপর দিকে ছোট ছোট নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ওইসব নদীতে ইতোপূর্বে স্থাপিত সেচ যন্ত্রগুলো এখন পানি সংকটের মুখে পড়েছে। ফলে ইরি- বোরো মৌসুমে প্রাকৃতিক উৎসনির্ভর খাল-বিল, নদী থেকে সেচ দিয়ে ইরি- বোরো চাষ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর শাখা প্রশাখার অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে নদীগুলো নিজেদের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

মেঘনা নদীর পানি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে এবং আষাড়ি চর ও মৃধাকান্দী এলাকাসহ বিশাল বিশাল চর জেগে উঠেছে  এখন এই নদীগুলোর বুকে।

সোনারগাঁ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষ নদীতে নাব্যতা থাকার সময় স্বাভাবিকভাবে নৌকায় চলাচল করতো। এখন নদী বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর এবং শীর্ণকায় নদীর শাখাগুলো শুকিয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নদীগুলো আরও ভরাট হয়ে যাবে এবং নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হবে। সেজন্য অবিলম্বে নৌ চ্যানেলগুলো ড্রেজিং না করলে এ উপজেলার চরাঞ্চলের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, সোনারগাঁওয়ের অসংখ্য নদ-নদী এভাবেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এসব নদ- নদীকে বাঁচাতে হলে এলাকাবাসীসহ সবার সচেতন হতে হবে। নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, সোনারগাঁয়ের খাল নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ড্রেজারের মাধ্যমে শিগগিরই খনন শুরু করা হবে।সোনারগাঁ উপজেলার ভূমি সহকারী কমিশনার মো,ইব্রাহিম বলেন সারাদেশের ন্যায় নদীগুলো ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার সরকারের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.