কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুলে ছুটির দিনে লোকচক্ষুর আড়ালে গত ১ যুগের সরকারি বোর্ডের বই, পরীক্ষার খাতাসহ সকল ডকুমেন্টস বিক্রি করেছেন প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সাহা। অথচ বোর্ডের বই বিক্রি করা যাবে না এই মর্মে সরকারের বিধিনিষেধ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে প্রধান শিক্ষক লক্ষ লক্ষ টাকার বই, খাতাসহ ডকুমেন্টস বিক্রি করলেন কিভাবে? সরকারের বিধি বহির্ভূতভাবে বোর্ডের বই বিক্রি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চলছে সমালোচনার ঝড়। শনিবার ছুটির দিনে লোকচক্ষুর আড়ালে প্রায় ৫০ ভ্যান বই, খাতা বিক্রি করেছেন প্রধান শিক্ষক। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সাহা বলেন, দীর্ঘ দিনের পুরাতন বই ও পরীক্ষার খাতা কেজি দরে বিক্রি করেছি। তবে ম্যানেজিং কমিটির কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি।
প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির দায়ে কুষ্টিয়া কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখা থেকে চাকুরীচ্যুতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের সময় ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে টাকার বিনিময়ে সিডিউল বহির্ভূত নিম্নমানের রড ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কালেক্টরেট স্কুলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ১১ জন অস্থায়ী শিক্ষককে স্থায়ীকরনের সংবাদ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে তিনি শহরের কাটাইখানা মোড়ে সফটওয়্যারের জমজমাট ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। শিক্ষকতার চেয়ে ব্যবসায়ীক কাজে তাকে বেশী ব্যস্ত দেখা যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) মুঠোফোনে বলেন, পরীক্ষার খাতা বিক্রয় করতে পারে করতে পারে কিন্তু বোর্ড বই বিক্রয়ের কোন নিয়ম নাই যদি বিক্রয় করে থাকে তাহলে আমরা তদন্ত করে বিষয়টা দেখব। দূর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্বে খতিয়ে দেখার আহ্বান সচেতন মহলের।