মতলবে পথসভার মঞ্চ ও গাড়ি ভাঙচুর মায়াপুত্র দীপুসহ ২০০ জনকে আসামি করে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পথসভার মঞ্চ ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় ৯৩ জনসহ অজ্ঞাত ১৫০-২০০ জনকে বিবাদী করে মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও আওয়ামীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা গত শনিবার মতলব সেতু এলাকায় পথসভা করেন। অনুষ্ঠান শেষে নেতারা সভাস্থল ত্যাগ করলে সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপুর নেতৃত্বে তার সমর্থকরা মঞ্চ ও গাড়ি ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় সোমবার মোহনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বিল্লাল তফাদার বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলা নং ১ (১০) ২১।
মামলায় প্রধান বিবাদী করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপুকে। অন্য আসামিরা হলেন, মুক্তার হোসেন, হাসান মোরশেদ আহার খালাশী, নাজমুল, হুমায়ুন খালাশী, আজমল চৌধুরী, খোরশেদ খালাশী, সুমন দর্জী, শাহীন খালাশী, সুমন বেপারী, হৃদয়, লিখন সরকার, মো. মিনহাজ উদ্দিন খান, মোছাদ্দেক হোসেন মুরাদ, মাহমুদুল হাসান দোলন, শরীফ সরকার, কামাল গাজী, রহিম দেওয়ান, মান্নান, শাহজাহান মোল্লা, ছদরুল আমীন, দুলাল, হানিফ খা, আবুল খায়ের, গাজী নাসিম রানা, দেলোয়ার হোসেন দানেশ, বশির আল হেলাল, হালিম সরকার, রশিদ খান, সেলিম, সম্রাট গাজী, স্বপন মল্লিক, আলমগীর দেওয়ান, শরিফ দেওয়ান, শাওন, শাকিল দেওয়ান, মনির মোল্লা, বাদশা পাটোয়ারী, মহন মজুমদার, সোহেল বাবু, মেহেদী হাসান কাজল, মো. ইউসুফ মিয়া, আবুল বাসার বাবুল, আরিফুল হক খোকা, সাইফুল ইসলাম আক্তার, মিজান সরকার, রিপন সরকার, সজীব মুন্সি, পইন সরকার, কালাম, বাপক সরকার, আনোয়ার হোসেন আনু, মো. হৃদয়, মিলন বেপারী, কাজল বেপারী, ইব্রাহিম সরকার, মো. শিশির মাস্টার, গিয়াস, মোতালেব, আবু সাঈফ, মহন মজুমদার, হুমায়ন আখন, শওকত প্রধান, রাশেদ প্রধান, রিয়াদ পাটোয়ারী, মোঃ শাকিল, ইউসুফ সরকার, ফয়সাল মিজি, আদম আলী, সোবহান সরকার শোভা, মিজার সরকার ডিসি মিজান, রিপন সরকার, শাহ আলাম সরকার, আহসান উল্লাহ সরকার, মামুন শিকদার, শামীম, বাদল ঢালী, আল মাহমুদ টিটু মোল্লা, তোফায়েল সরকার, ডেঙ্গু, মেহেদী, কিবরিয়া খান, দিদার মোল্লা, উজ্জ্বল, আবুল হোসেন কালু, কামরুল হাসান মামুন (কুত্তা মামুন), বাবু, আরিফ প্রধান, কামাল মল্লিক, হানিফ দর্জি, আবুল খায়ের, করিম ছৈয়ালসহ ১৫০-২০০ জন।

আরও পড়ুনঃ  মাদারীপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজন ও উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২ অক্টোবর শনিবার চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় যোগ দিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামবুব উল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ চাঁদপুর আসার পথে সংবর্ধনা দিতে মতলব সেতু এলাকায় স্থানীয় এমপি অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল সমর্থিত কর্মীরা একটি পথসভার মঞ্চ করেন। ওইখানে সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু সহ বিবাদীরা পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামছুল আলম ও চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল এর গাড়ী বহরের পিছনে হামলা চালায়। পথ মঞ্চটি ভাঙচুর করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। এসময় এমপি রুহুল গ্রুপের কর্মীদের চারটি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস সহ প্রায় ২০-২৫ টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। বিবাদীরা দা, ছেনি, রড, হকি ষ্টিক, রাম দা, কুড়াল, গ্যাস পাইপ ও লাঠি সোটা নিয়ে চলন্ত গাড়ি গতিরোধ করে আক্রমণ করে ও এমপি রুহুল সমর্থিত কর্মীদের মারধর করে। এসময় মামলার বাদী সহ প্রায় ৩০ নেতাকর্মী গুরুতর আহন হন। কয়েকজনের কাছে থাকা ৫ হাজার ৩৬০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ভাঙচুরকৃত গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  ভোলায় স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে নছিমন চাপায় প্রাণ গেল যুবকের

মামলার বাদী বিল্লাল তফাদার বলেন, সিপাই কান্দি মতলব সেতু এলাকার ওইখানে যাতে আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানাতে না পারি সেজন্য পরিকল্পনা মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদের গাড়ি বহরে হামলা করেছে দিপুর সন্ত্রাসী কর্মী বাহিনী। দিপু চৌধুরী ও গাজী মুক্তারের সন্ত্রাসী বাহিনীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা হামলা করে পথসভার মঞ্চটি ভেঙে ফেলে এসময় তারা বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে এবং আমার মাইক্রোবাসসহ চারটি গাড়ি ও ২০/২৫ টি মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলে। লিখিত অভিযোগে বাদি আরও বলেন, নেতৃবৃন্দকে মারধর করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সংবাদ সারাবেলা