বাঘায় মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘায় মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে  চলতি বছরের আম বিক্রয়ের টাকা স্কুল ফান্ডে জমা না দেয়ার অভিযোগ  উঠেছে।

গত ৩১ মে, চলতি বছরের আম  উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে বিক্রয়ের  ঘোষণা দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। সে ঘোষণা অনুযায়ী  ডাকে ১০ জন  আম ব্যবসায়ী অংশ নেন। কিন্তু  ডাকে কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ার  অজুহাত দেখিয়ে ডাক বাতিল এবং দ্বিতীয় দফায়  ডাকের  দিন  পরবর্তীতে  ঘোষণা করা হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি । এরপর  কোন রেজুলেশন ছাড়াই প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেনের সঙ্গে  যোগসাজষে  বিদ্যালয়ের আম বিক্রয় শুরু করেন এডহক কমটিরি সভাপতি কাফাতুল্লাহ।

কিন্তু আম বিক্রয়ের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের ফান্ডে এখনও কোন টাকা  জমা হয়নি । এ বিষয়ে  গত  সোমবার ( ৪ অক্টোবর ) প্রধান শিক্ষক  বাবুল ইসলামের  কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  আম বিক্রি করেছেন সভাপতি, তিনি টাকা জমা না দিলে আমার  কি করার আছে? কত টাকার আম বিক্রয় হয়েছে এমন প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক বলেন, সঠিক হিসাবটা সভাপতি আমাকে এখনও দেয়নি। তবে  আমার জানা মতে প্রায় তিন লক্ষ টাকার মতো আম বিক্রি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  তিনদফা দাবিতে বিক্ষুব্ধ কুড়িগ্রামের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা

এ বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,  আম বিক্রয় করেছেন  আমার চাচাতো ভাই। সে এখনও টাকা  পরিশোধ  না করায় টাকা  জমা  দেয়া হয়নি। তবে টাকা না পেলেও আমের টাকা তিনি নিজে জমা দেবেন বলে সাংবাদিককে অবহিত করেন।

প্রতিষ্ঠানের আম ডাকের মাধ্যমে বিক্রয় না করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিক্রয়ের কারণ কি এমন প্রশ্নের জবাবে  তিনি  এ  প্রতিবেদককে বলেন, ডাকের মাধ্যমে আম বিক্রয়ের ঘোষণা দিলে সর্বোচ্চ ডাককারি আফাজ উদ্দিন অনেককেই  ডাকে অংশগ্রহণ করতে বাধা প্রদান করেন। সর্বোচ্চ ডাককারি হিসেবে  তার কাছে আম বিক্রয় করলে সে আমের টাকা  না দিয়েই আম নিয়ে যেত। তাই তার কাছে আম বিক্রি করা হয়নি। দ্বিতীয় দফা কেন ডাক দেয়া হলো না, এমন প্রশ্ন  এড়িয়ে সভাপতি বলেন, আম বিক্রি হয়েছে মোট তিন লক্ষ পঞ্চাশ  হাজার টাকার, সব টাকা জমা দিয়ে দেব।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কাসেম ওবায়েদ বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই এবং এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পেলে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ডাকে সর্বোচ্চ ডাককারি ছিলেন স্থানীয় আফাজ উদ্দিন (৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা), দ্বিতীয় ডাককারি মাইনুল ইসলাম (৩ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা) এবং তৃতীয় ডাককারি ছিলেন আনিসুর রহমান  (৩ লক্ষ  ৪০ হাজার টাকা )।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সংবাদ সারাবেলা