ব্লাডক্যান্সারের কাছে হেরে গেল শিক্ষার্থী আশিকুর

|| সারাবেলা প্রতিবেদক ||

ব্লাডক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের আশিকুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মঙ্গলবার ৩রা আগস্ট সকালে রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আশিক।

আশিকুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার সহপাঠী ও বন্ধু আব্দুল মুনঈম। তিনি জানান, গত দুই মাস ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন আশিক। ক্যান্সারের চিকিৎসায় গ্রহণ করছিলেন কেমোথেরাপি। এতে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও সবশেষ গত রোববার ১লা আগস্ট রাতে স্ট্রোক করেন। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা যান।

আশিকুর সবশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সাত কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

সদা হাস্যজ্জল এবং মিশুক আশিকুর রহমানের হঠাৎ মৃত্যু সংবাদে শোক প্রকাশ করেন তার সহপাঠীরা। স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বার বার অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন তারা মোহাম্মদ নিয়ন নামের তার এক সহপাঠী বলেন, আশিক সব সময় সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতো। তার থেকে কখনো আমরা কোন ধরনের রূঢ় আচরণ পাইনি। বিভাগের সবচেয়ে ভালো শিক্ষার্থী এবং মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো।

আরও পড়ুনঃ  এসএসসি ও এইচএসসি নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছে না সরকার

 

মোস্তফা আমিনুর রেজভি নামের আরেক সহপাঠী বলেন, আশিকুর যথেষ্ট মেধাবী এবং বুদ্ধিমান শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনায় যেমন মেধাবী ছিলো তেমনি আচার আচরণেও যথেষ্ট ভাল ছিলো।

২০১৪-১৫ সেশনের মেজবাহ আহমেদ বলেন, খুবেই শান্ত শিষ্ট ও অসাধারণ চরিত্রের অধিকারী ছিল আশিক, আমি ওর মাগফেরাতের কামনা করছি।

এছাড়াও আশিকুরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক রাফিজা বেগম এবং বিভাগীয় প্রধান প্রফেসার শফিক নেওয়াজ সহ অনান্য শিক্ষকগন। একই বিভাগের অধ্যাপক রুনা নাসরিন জানান, খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। আল্লাহ পাক ওকে জান্নাতুল ফেরদৌস  নসীব করুন। ওর মা বাবাকে এই কষ্ট সইবার শক্তি দান করুন।

আশিকুর রাজধানীর সাইনবোর্ডের সানারপাড় এলাকায় পরিবারের সাথে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলায়। গ্রামের বাড়িতে দাফনের উদ্দেশ্যে মরদেহ ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখানেই আসরের নামাজের পর নামাজে জানাজা শেষে দাফন করার কথা রয়েছে।

এর আগে সাইনবোর্ড এলাকায় তার আর একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সেসময় তার সহপাঠিদের মধ্যে উপস্থিদ ছিল, রেজভি, সাদ, সাইফুল, মইনুল সহ অনান্যরা তারা সকলেই তার বিদেহী আত্মা মাগফেরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সংবাদ সারাবেলা