ইভ্যালিতে যমুনা গ্রুপের বিনিয়োগসিদ্ধান্ত নিরীক্ষার পর

দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ যমুনা গ্রুপ ই ভ্যালিতে বিনিয়োগ করবে না কি না তা জানা যাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর। যমুনা গ্রুপের উদ্যোগে বর্তমানে ইভ্যালির নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। ইভ্যালির গ্রাহক ও ইভ্যালিতে পণ্য সরবরাহকারীদের পাওনা-দেনা নির্ধারিত হবে এই নিরীক্ষার মাধ্যমে।

|| সারাবেলা প্রতিবেদন ||

দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ যমুনা গ্রুপ ই ভ্যালিতে বিনিয়োগ করবে না কি না তা জানা যাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর। যমুনা গ্রুপের উদ্যোগে বর্তমানে ইভ্যালির নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। ইভ্যালির গ্রাহক ও ইভ্যালিতে পণ্য সরবরাহকারীদের পাওনা-দেনা নির্ধারিত হবে এই নিরীক্ষার মাধ্যমে। এরপর যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে বিনিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কথা বলবে।

যমুনা গ্রুপের মার্কেটিং, সেলস ও অপারেশনস পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর আলম আজ শুক্রবার ফেসবুক পোস্ট দিয়ে এ কথা বলেছেন। আলমগীর আলম তাঁর ওই ফেসবুক পোস্টে বলেন, যেহেতু এখনো নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়নি এবং এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো যমুনা গ্রুপের হাতে আসেনি, তাই ইভ্যালিতে বিনিয়োগের বিষয়ে যমুনা গ্রুপ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে প্রস্তুত নয়। নিরীক্ষা শেষ হলে যমুনা গ্রুপ যথাসময়ে তাদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ও কর্মপদ্ধতি গণমাধ্যমে তুলে ধরবে।

বিনিয়োগের ব্যাপারে যমুনা গ্রুপের কার্যালয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হয় ২৭শে জুলাই। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুক্তিতে সই করেন যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামীম ইসলাম এবং ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল। ওইদিনই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইভ্যালি জানিয়েছিল, যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। আপাতত করবে ২০০ কোটি টাকা। এ ব্যাপারে তাদের একটি চুক্তি হয়েছে। ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল বলেছিলেন, একটি দেশীয় উদ্যোগ হিসেবে আমাদের পাশে আরেকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত। যমুনার এই বিনিয়োগ ধারাবাহিক বিনিয়োগের অংশ এবং পরবর্তী ধাপেও তাদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এই বিনিয়োগ ইভ্যালির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে। গ্রাহকদের পুরোনো ক্রয় আদেশের বিষয়ে ওই দিন মোহাম্মদ রাসেল আরও জানান, যেসব ক্রয় আদেশ সরবরাহ অপেক্ষমাণ, সেগুলোর ব্যাপারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে রফতানি কুমিল্লার কচু আর লতি

ওই বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছিল, যমুনা গ্রুপের এমডি শামীম ইসলাম বলেছেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে আমরা দেখছি, স্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আমাজন, চীনের ক্ষেত্রে আলিবাবা। তেমনি বাংলাদেশে ইতিমধ্যে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি এবং দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। যমুনা ৫০ বছর ধরে দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। এখন থেকে ইভ্যালি এবং যমুনা গ্রুপ সেই স্বপ্ন পূরণে একে অপরের অংশীদার হলো।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৯শে আগস্ট ও ২৬শে আগস্ট বৃহস্পতিবার যে তথ্য আছে, সে অনুযায়ী ১৫ই জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির চলতি দায় ৫৪৩ কোটি টাকা। আর ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪১ গ্রাহকের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দেনা ৩১১ কোটি টাকা।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সংবাদ সারাবেলা