দেশের উন্নতি কীভাবে করতে হয় তা আওয়ামী লীগই জানে বললেন প্রধানমন্ত্রী

|| সারাবেলা প্রতিবেদন ||

আওয়ামী লীগ আবার সরকারে ফেরার পর এদেশের মানুষ আবার ‘সেবা পাচ্ছে’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “এদেশের মানুষ যদি কিছু পেয়ে থাকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই পেয়েছে। এদেশটার উন্নতি কীভাবে করতে হবে এটা আওয়ামী লীগ জানে, আওয়ামী লীগই করে যাচ্ছে।”

একইসঙ্গে করোনার এই দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বানও জানান সরকার প্রধান। পাশাপাশি করোনা মোকাবেলায় দেশবাসীকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধও করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, মহামারীর মধ্যে তারা নিজেরা কতজনকে সাহায্য করেছেন। সেসব হিসাব পত্রিকায় দিতেও বলেন সরকার প্রধান। বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, প্রতিদিন যারা ‘সরকার উৎখাতের’ জন্য বক্তৃতা-বিবৃতি দেয়, মহামারীর এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে তাদের ‘দেখা যাচ্ছে না’।

ছবি: পিআইডি’র সৌজন্যে

রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন সরকার প্রধান। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার হিসেবে সাড়ে ৩৬ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষ আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবেন। উদ্বোধনের দিনই ২২ হাজার ৮৯৫ জনের কাছে সহায়তার টাকা পৌঁছে গেছে। 

আরও পড়ুনঃ  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলদাবিতে বাড়ছে সোচ্চারন

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, “করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে তার দল আওয়ামী লীগ এবং সহযেগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ততটা উদ্যোগ তিনি দেখছেন না। অনেকেই শক্তিশালী বিরোধী দল চায়। আমরাও তো বিরোধী দলে ছিলাম। আমরা বিরোধী দলে থাকতে সব সময় যে কোনো দুর্যোগ, দুর্বিপাকে সবার আগে আওয়ামী লীগ ছুটে যেত মানুষের পাশে। এটাই বিরোধী দলের কাজ। কিন্তু আজকে যারা নিজেদেরকে বিরোধী দল… বা প্রতিদিন সরকার উৎখাতের জন্য বক্তৃতা-বিবৃতি, আন্দোলনের নামে পোড়াও-জ্বালাও করে যাচ্ছে, দুর্যোগে মানুষের পাশে কোথায় তারা? কয়টা দুর্গত মানুষের মুখে তারা খাবার তুলে দিয়েছে? কয়টা মানুষের পাশে তারা দাঁড়িয়েছে? কয়জন মানুষের কাফনের কাপড় কিনে দিয়েছে? কেউ নেই…।”

ছবি: পিআইডি’র সৌজন্যে

সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিজে কয়টা লোককে সাহায্য করেছেন? তার একটা হিসাব পত্রিকায় দিয়ে দেন। তাহলে মানুষ আস্থা পাবে, বিশ্বাস পাবে। সেটা হচ্ছে বাস্তবতা।”

তিনি বলেন, “সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছে এবং অনেকগুলো বেসরকারি টেলিভিশন করে দিয়েছে, রেডিও করে দিয়েছে, পাশপাশি বেসরকারিখাতে অনেকগুলো পত্রিকা হয়ে গেছে, এবং তারা বেশ ঘরে বসে বসে বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছেন।”

যারা সমাজে ‘বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, তাদের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, “তাদের বুদ্ধিটা যখন খোলে এবং তারা পরামর্শ দেন, তার আগেই কিন্তু আমাদের সরকার আওয়ামী লীগ এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে নেয়।”

আরও পড়ুনঃ  দায়িত্ব নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চারন জানালেন চসিক প্রশাসক

সরকার যখন মানুষের কল্যাণে সব পরিকল্পনা গুছিয়ে আনে বা বাজেটে কোন কোন খাতের উপর বেশি গুরুত্ব দেবে, তা যখন চূড়ান্ত হয়ে যায়, তখন সেই বুদ্ধিজীবীদের ‘দুই একটা বুদ্ধি খোলে’ বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমাদের যেই কাজগুলো, সেইগুলো আবার তারা আমাদেরকে পরামর্শ দেন। তো ঠিক আছে। তারা বুদ্ধিজীবী, তাদের এত বুদ্ধি, বুদ্ধি বেচেই জীবন যাপন করবেন। কাজেই তাদের পরামর্শের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।”

ছবি: পিআইডি’র সৌজন্যে

সরকার বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শের জন্য বসে না থেকে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কারণ এই দেশটা আমাদের। এই দেশটা আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। রাজনীতি আমাদের জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য। এই কথাটা আমরা ভুলি না।”

এ প্রসঙ্গে আবারও বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দল বা যারাই আছেন, প্রতিদিন কীভাবে সরকার উৎখাত করবে, সেই চিন্তা ভাবনা করেন, তাদেরকে কিন্তু এটা করতে হলে বা শক্তিশালী বিরোধী দল গড়তে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের বিশ্বাস, আস্থা অর্জন করতে হবে।”

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর তারা ভেবেছিল, আওয়ামী লীগ আর কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না। অপরাধ কী ছিল? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। এটাই তো অপরাধ ছিল?”

আরও পড়ুনঃ  মিললো করোনার ‘ওষুধ’, শরীরে ঢুকেই গিলে ফেলবে ভাইরাস

ভোলা, জয়পুরহাট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে স্থানীয় সংসদ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

সংবাদ সারাবেলা