জামালগঞ্জে গরম ধমকা বাতাসে পুড়ছে শত একর জমির ধান

|| সারাবেলা প্রতিনিধি, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) ||

সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় আচমকা গরম বাতাসে (হিট ইনজুরি) বিস্তর ক্ষতিতে পড়েছে শতাধিক কৃষকের ৫০০ একর বোরো জমির ধান। সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ ধমকা গরম বাতাস। ৩ থেকে ৪ ঘন্টা স্থায়ী বাতাসে কৃষকের মাঝে শুরু হয় আতঙ্ক। গভীর রাতে বাতাস কমার পর আতঙ্ক কমে গেলেও সকালে উঠে কৃষকদের মাথায় হাত। সূর্যের প্রখরতা বাড়ার সাথে সাথে উঠতি বোরো ফসলের শিষ মরতে শুরু করেছে। মাঠের পর মাঠ একই অবস্থা।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলার হাওরাঞ্চলে উঠতি হাইব্রিড জাতীয় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কয়েক ঘন্টার গরম ধমকা বাতাসে উঠতি ফসলের শিষ শুকিয়ে যায়। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ বছর মোট ২৪ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উপজেলার হাওরাঞ্চলে মোট ৯৭ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৬১ মেট্রিক টন।

ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাবুল সরকার, শ্যামল সরকার, সুদিন সরকার ও শেখর সরকার জানান, গত সোমবার রাতে সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শুধুই গরম বাতাস বইছিল। কোনরকম ঝড়বৃষ্টি ছিল না। বাতাসটি অসহ্য মনে হয়েছে। সকালে রোদ উঠার পর হাওরে গিয়ে দেখি তোড় আসা ধান মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমাদের সংসার এখন চালাবো কী করে। বেশি ফলনের আশায় হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করেছিলাম। কিন্তু এখন সর্বনাশ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  একুশের স্মৃতির মিনার কুড়িগ্রামের পাড়ায় পাড়ায়

ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিল্টন সরকার জানান, আমাদের জাইঞ্জা দলা, বেতাকী দলা, পুটিয়ার হাওরে বিষ্ণুপুর, নিধিপুর, রাজেন্দ্রপুর, আমানীপুর গ্রামে শতাধিক কৃষকের প্রায় ৫০০ একর জমির ফসল গরম বাতাসে পুড়ে গেছে। এখন সবার মাঝে আতঙ্ক আর শুধুই হতাশা। সরকারিভাবে তাদেরকে সহযোগিতা না করলে কৃষকেরা পথে বসবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাশরেফুল আলমের কাছে ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জরিপ করছি। বিশাল হাওরে ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করতে একটু সময় লাগবে। ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে হিট সক/হিট ইনজুরিতে পড়ায় ধানের বেশীর ভাগই চিটা হয়ে যেতে পারে। এ সময়ে বোরো ধানের যে সকল জাত ফুল ফোটা পর্যায়ে আছে বা এখনও ফুল ফুটছে বা সামনে ফুল ফুটবে সেই সকল জমিতে পানি ধরে রেখে ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে হিট সক/হিট ইনজুরি থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। এছাড়া বিঘা প্রতি ৫ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, এ বিষয়ে কৃষি অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা সরজমিনে তদন্ত করে উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে জানালে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সংবাদ সারাবেলা