মুজিব কর্নার হলো জনতা ব্যাংক ভবনে

‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করেছে জনতা ব্যাংক। এটা জাতির পিতার প্রতি আমাদের সম্মান। জাতির পিতা মৃত্যুঞ্জয়ী। জাতির পিতা আমাদের সকল ভাল কাজের অনুপ্রেরণা। তিনি আমাদের পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আমাদের উৎসাহিত করছেন। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম তারই দেখানো পথ অনুসরন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের সাথে সেতুবন্ধ রচনা করবে এই মুজিব কর্ণার।

|| সারাবেলা প্রতিবেদন ||

মুজিব জন্মশতবর্ষে জনতা ব্যাংক লিমিটেড প্রধান কার্যালয় ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে মুজিব কর্নার উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার ২১শে মার্চ রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের ১২ তলায় এই কর্নারের ভার্চ্যুয়াল উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি।

এ সময় তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করেছে জনতা ব্যাংক। এটা জাতির পিতার প্রতি আমাদের সম্মান। জাতির পিতা মৃত্যুঞ্জয়ী। জাতির পিতা আমাদের সকল ভাল কাজের অনুপ্রেরণা। তিনি আমাদের পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আমাদের উৎসাহিত করছেন। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম তারই দেখানো পথ অনুসরন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের সাথে সেতুবন্ধ রচনা করবে এই মুজিব কর্ণার।

তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের অনিয়ম-অপচয় রোধ করে জাতির পিতার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করব।

জনতা ব্যাংকে নির্মিত মুজিব কর্নার দেখার জন্য ব্যাংকের অনুরোধের জবাবে তিনি জানান যে, আপনারা আরো কঠোর পরিশ্রম করুন, ব্যাংকের অবস্থা আরো উন্নত হোক গভর্নর সাহেবকে সাথে নিয়ে আমি আনন্দ চিত্তে জনতা ব্যাংকে যাব।

আরও পড়ুনঃ  ‘সীমিত’ নয় পুরোদমেই চলছে চট্টগ্রামের পোশাক কারখানা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির বলেন, জনতা ব্যাংকের আমানত ও তারল্য শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এটা আশার কথা। তবে জনতা ব্যাংককে ঘুড়ে দাাঁড়াতে হলে খেলাপী ঋণের লাগাম টেনে ধরতে হবে। ঋণ আদায়ে আরো কঠোর শ্রম দিতে হবে। তাহলে সম্পদের গুণগত মানবৃদ্ধি পাবে। মূলধন পর্যাপ্ততায়ও ইতবাচক প্রভাব ফেলবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচি হিসেবে মুজিব কর্নার নির্মাণ এবং স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীলগ্নে এর উদ্বোধন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

প্রসঙ্গতঃ তিনি এও উল্লেখ করেন যে, দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান নির্বাহীদের মাঝে জনতা ব্যাংকেই একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা প্রধান নির্বাহী রয়েছেন। এটা জনতা ব্যাংকের জন্য সৌভাগ্য।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতার আদর্শকে ধারন করে জনতা ব্যাংক দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। এ ব্যাংকের নবীন কর্মকর্তারা জাতির পিতার উন্নয়ন দর্শনকে ধারন করে সততা নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। জাতির পিতা নিজ মমতায় দেশের ৪ টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের নামকরন করেন। তাঁর দেয়া প্রতিটি নাম-আভিধানিক অর্থেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

জনতা ব্যাংক লিমিটেড পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, মুজিব কর্নার বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চর্চার কেন্দ্র এবং নতুন প্রজন্মের সবার জন্য প্রেরণার একটি প্রতিষ্ঠান। যা আলোকিত মানুষ গড়তে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আগামী মাস থেকে ব্যাংক ভবনের লবিতে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল স্থাপনের কাজ শুরু হবে। ব্যাংকের প্রবেশ পথে একটি স্নিগ্ধ পরিবেশে সবাই প্রামান্য চিত্র দেখতে পাবেন। ব্যাংকটিকে সুদৃঢ় অবস্থানে দাঁড় করাতে তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুনঃ  ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের সীমা বাড়ছে

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জনতা ব্যাংকের এমডি এন্ড সিইও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন,আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দু’টি কাজের মধ্যে একটি হলো কিশোর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ আর অপরটি জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ্উদযাপনের অংশ হিসেবে ব্যাংকে মুজিবকর্নার স্থাপন ।

স্বাধীনতা উত্তরকালে জাতির পিতা ইউনাইটেড ব্যাংকে নিজের ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করতেন। তাঁরই হাতে নামকরন করা জনতা ব্যাংক ইউনাইটেড ব্যাংকেরই উত্তরাধিকার। এই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বঙ্গবন্ধুর ব্যাংক হিসাব আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

তিনি আরও বলেন, বিগত এক বৎসরের কোভিড আক্রান্তের ফলে সারা পৃথিবীর প্রতিটি দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেখানে সংকুচিত সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারী ও গতিশীল নেতৃত্বে মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঠিক দিক নির্দেশনায় আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আমরা মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনকে অনুসরন করায় দেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে মহাযজ্ঞ চলছে তার সাথে একাত্ম হয়ে আমরাও কাজ করছি। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে কোভিড পরিস্থিতিতেও আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি থেমে থাকেনি। রেমিটেন্স আহরন এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ বৃদ্ধিতে আমরা রেকর্ড গড়েছি।

আরও পড়ুনঃ  করোনাকালে খরচ কমিয়েছেন দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ

অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক অজিত কুমার পাল, এফসিএ, মেশকাত আহমেদ চৌধুরী, কে এম সামছুল আলম, জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও হেলাল উদ্দিন, সোনালী ব্যাংকের এমডি এন্ড সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধান, অগ্রণী ব্যাংকের এমডি এন্ড সিইও মো. শামস-উল ইসলাম, কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আলী হোসাইন প্রধানিয়া, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এমডি কাজী আলমগীর, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি মো. ইসমাইল হোসেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকের এমডি মো. তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সংবাদ সারাবেলা