ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১

মহেশপুরের কাজিরবেড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ইউনিয়নের সামান্তাবাজারের এক পরিবারেরই ছয়জন রয়েছেন। এরা হলেন মিয়াজান বিবি (৬৫), তার মেয়ে আমেনা বেগম (৫০), প্রয়াত ছেলে মোহরের স্ত্রী কুটি বিবি (৫২), তার মেয়ে মরিয়ম (২০), তার সন্তান (৬), মনিয়মের স্বামী জুয়েল (৩২)।

|| সারাবেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর ||

ফরিদপুরে সড়কে দুটি দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ছয়জনসহ ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। রোববার জেলার মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দিতে ট্রাক ও মাইক্রোবাস এবং ভাঙা উপজেলার বিশ্বরোড় মোড়ে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এসব মানুষ মারা যান। এর মধ্যে মধুখালীর মাঝকান্দিতে মারা গেছেন নয় জন এবং অন্য দুইজন মারা গেছেন ভাঙার বিশ্বরোড় মোড়ে।

ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার এসআই কাওসার হোসেন বলেন, “ঝিনাইদহ থেকে একটি মাইক্রোবাস ঢাকার আশুলিয়া যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মধুখালীর মাঝকান্দিতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের দুই জন নিহত হন। এছাড়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর আহতদের মধ্যে আরও ছয়জন মারা যান। এছাড়া ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান আরও একজন।   

মধুখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা টিটো সিকদার বলেন, উপজেলার মাঝকান্দির মোড়ে পারিশা ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ট্রাক জ্বালানি নিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। নিহত মাইক্রোবাস যাত্রীদের সকলের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা, সহকারী কমিশনার সীমা রানী সাহা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  ৩১ অক্টোবর যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মহেশপুরের কাজিরবেড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ইউনিয়নের সামান্তাবাজারের এক পরিবারেরই ছয়জন রয়েছেন। এরা হলেন মিয়াজান বিবি (৬৫), তার মেয়ে আমেনা বেগম (৫০), প্রয়াত ছেলে মোহরের স্ত্রী কুটি বিবি (৫২), তার মেয়ে মরিয়ম (২০), তার সন্তান (৬), মনিয়মের স্বামী জুয়েল (৩২)।

এছাড়া রয়েছেন মাইক্রোবাস চালক আলামিন (৩০) ও তার সহযোগী নজরুল ইসলাম (৬০) ও অ্যাডভোকেট আব্বাস আলী (৬০)।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহতদের পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা দেয়ার কথা জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। তিনি বলেছেন, অন্যদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সহযোগিতা করা হবে।

ভাঙার বিশ্বরোড মোড়ে নিহত জন

এদিকে ভাঙা উপজেলার বিশ্বরোড় মোড়ে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন মোটরসাইকেল আরোহী দুই শিক্ষার্থী। এরা হলেন রনি ফকির (২০) ও শাকিল খান (২২)। তাদের বাড়ি পৌর এলাকার সরদী মহল্লায়।

সংবাদ সারাবেলা