বিষাক্ত বর্জ্য আর জলাভূমি কমে যাওয়ায় বিপন্ন প্রতিবেশ গাজীপুরের

শিল্পকারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্যে জলাভূমিতে উদ্ভিদ ও প্রাণির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।  জেলার কোনো মুক্ত জলাশয়েই দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম আর নেই। তুরাগ, বালুনদী, বানার নদী, শীতলক্ষ্যা, বেলাইবিলসহ বর্ষায় প্লাবিত হয় এমন জলাভূমিতে জলজউদ্ভিদ ও প্রাণি খুঁজে পাওয়া যায়না।

|| সারাবেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর ||

শিল্প-কারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্য আর প্রকৃতিক জলাভুমি কমে যাওয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে গাজীপুরের প্রতিবেশ পরিবেশ। প্রতিবেশ পরিবেশ রক্ষায় তরলবর্জে্যর উৎস বন্ধে বেসরকারি সংস্থা ও কমিউনিটি গ্রুপগুলো নানাভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালালেও  রাষ্ট্রিয় উদ্যোগ নেই বললেই চলে। জীববৈচিত্র্য আর মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা।

ছবি: সংবাদ সারাবেলা

সরেজমিনে গাজীপুরের বিভিন্ন জলাশয় ঘুরে দেখা গেছে, শিল্পকারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্যে জলাভূমিতে উদ্ভিদ ও প্রাণির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।  জেলার কোনো মুক্ত জলাশয়েই দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম আর নেই। তুরাগ, বালুনদী, বানার নদী, শীতলক্ষ্যা, বেলাইবিলসহ বর্ষায় প্লাবিত হয় এমন জলাভূমিতে জলজউদ্ভিদ ও প্রাণি খুঁজে পাওয়া যায়না। কলকারখানাতো বটেই হাটবাজার, শহর ও বস্তি এলাকার গৃহস্থ বর্জ্য ফেলারও বড় ভাগার এসব জলাশয়। দীর্ঘ দশবছর চেষ্টা করেও কালিয়াকৈর উপজেলার চারটি বিল সংরক্ষণ করে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশ রক্ষায় অভয়াশ্রম গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। কালিয়াকৈর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো: সলিমুল্লাহ্ অভিযোগ করেই বলেন বলেন, একদিকে জলাভূমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে আবার কারখানার দূষিত পানিতে মাছের অভয়াশ্রম বা বিল রক্ষা করা সম্ভব হয় না। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত।

আরও পড়ুনঃ  জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের নেতৃত্বে যারা
ছবি: সংবাদ সারাবেলা

বেসরকারি সংস্থা পরিবেশ আন্দোলন জলাভূমির ক্রমাবনতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার দাবীতে মানববন্ধন, র‌্যালি ও প্রতিবাদ সভা করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) গাজীপুর আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসান ইউসুফ খান মনে করেন, প্রাকৃতিক সম্পদব্যবস্থাপনা খুবই জরুরী। দখল- দূষণে জলাভূমির শ্রেণী পরিবর্তন সহ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জলজপ্রাণি। হাউজিং কোম্পানিগুলো জলাভূমি ভরাট করে আবাসনসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলছে। এতে প্রাকৃতিক জলাভূমির অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সচেতনতায় কিছু কাজ করতে পারে, সাংবিধানিকভাবেই জলাভূমি সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

ছবি: সংবাদ সারাবেলা

বাংলাদেশ নদী রক্ষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ফেডরিক মুকুল বিশ্বাস বলেন, জলাভূমির আয়তন কমানোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং জলাভূমির বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসযোগ্যতা সংরক্ষণে বেসরকারি সংস্থা হিসেবে আমরা বিভিন্ন প্রচারণা কার্যক্রম করে আসছি।

গাজীপুরের সকল জলাভূমির পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে জানিয়ে এই পরিবেশকর্মী বলেন, এসব এলাকার বিষাক্ত পানিতে এখন আর মাছ পাওয়া যায় না। জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল মানুষ পেশা পরিবর্তণ করে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

গাজীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন ভূইঁয়া বলেন, শিল্পবর্জ্যে জলাভূমির জীববৈচিত্র্যে ক্ষতিগ্রস্ত। দেশে মৎস্যচাষ বাড়লেও বর্ষায় প্লাবিত প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জে হাওরভাতার দাবীতে সোচ্চার শিক্ষকরা
ছবি: সংবাদ সারাবেলা

শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্যে বিপণ্ন হওয়া নদীর জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ রক্ষা বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর গাজীপুরের সহকারি পরিচালক মো: আশরাফ হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, অপরিশোধিত তরল বর্জ্য জলাভূমিতে ফেলা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। শিল্পকারখানার কিছু অসাধু মালিক রাতের আঁধারে ইটিপির অপরিশোধিত তরল বর্জ্য জলাভূমিতে ফেলছে। সকল কারখানার ইটিপি প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে ২৪ঘন্টা মনিটরিং করতে পারলে দূষণরোধ করা সম্ভব। এছাড়া জবরদখল হওয়া জলাভূমি পুনঃরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে।

সংবাদ সারাবেলা