জান্তাবিরোধিতায় মিয়ানমারে চলছে ধর্মঘট

|| বার্তা সারাবেলা ||

সেনা অভুত্থানের ২২দিনের মাথায় ধারাবাহিক বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে দেশটির প্রতিবাদি মানুষ। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল এবং অং সান সু চিসহ রাজনীতিকদের আটকের প্রতিবাদে সোমবার সাধারণ ধর্মঘট পালন করছে তারা। দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ জোরালো করবারও আহ্বান জানানো হয়েছে। মান্দালয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২ জন নিহতের পর সেনাসরকারের গুলিতে আরো মানুষের প্রাণ যেতে পারে বলে বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করেছে জান্তাকর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন শহরে আরও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারপরও গেলো দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে চলা বিক্ষোভ ও আইন অমান্য কর্মসূচি থেকে সরাতে পারছে না সেনাসরকার। সোমবারের ধর্মঘট বিক্ষোভে যোগ দিতে সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র হয়ে ওঠা মুখ মং সৌংখা।

রোববার রাতে ফেইসবুক পোস্টে তরুণ এক রাজনৈতিক কর্মী লিখেছেন, “যাদের বাইরে আসার সাহস নেই, তারা ঘরে থাকুন। যেভাবেই হোক আমি বাইরে বের হব। আমি জেনারেশন জেডকে (চলতি শতকের দ্বিতীয় দশকে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে) বলছি, পার্টনাররা, চল একত্রিত হই।”

এরই মধ্যে মান্দালয়ে সেনাপুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত হয়েছে। নেপিডোতে ৯ই ফেব্রুয়ারির বিক্ষোভে মাথায় গুলিবিদ্ধ এক তরুণী মারা গেছে গেলো শুক্রবার। তার মরদেহ নিয়ে বিশাল শোকমিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ সব মানুষ।বিক্ষোভে আহত পুলিশের এক সদস্যের মৃত্যুর কথাও জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী ।

আরও পড়ুনঃ  প্রতিযোগিতা ঘোড়দৌড়ের মিলনমেলা মানুষের

সেনাদের এমন হুঁশিয়ারি আর হত্যাতেও চিড় ধরেনি বিক্ষোভকারীদের আত্মবিশ্বাসে। রোববারও মান্দালয়ে সমাবেশ করেছে লাখো মানুষ। বড় বিক্ষোভ হয়েছে মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াংগুনেও।

দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গণমাধ্যম এমআরটিভি সোমবারের কর্মসূচি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করেছে। বলেছে, “বিক্ষোভকারীরা এখন জনগণকে বিশেষ করে আবেগপ্রবণ কিশোর-যুবকদেরকে উসকে দিয়ে সংঘাতের পথে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রাণহানি হতে পারে।”

মিয়ানমারের সেনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বিক্ষোভ নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সংযম দেখাচ্ছে’ সরকার। কিছু দেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে জানিয়ে বিবৃতিতে তাদের তিরস্কারও করা হয়েছে।

পশ্চিমা অনেক দেশ এরই মধ্যে ১লা ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থান ও পরবর্তি সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো রাষ্ট্র। মারাত্মক শক্তি প্রয়োগকে অগ্রহণযোগ্য অ্যাখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ।

এদিকে কূটনৈতিক মিশনগুলোও বিদেশি হস্তক্ষেপ চাওয়া বিক্ষোভকারীদের একত্রিত হওয়ার কেন্দ্র হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাসের রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিয়েছে সেনাকর্তৃপক্ষ।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সংবাদ সারাবেলা