অযত্ন অবহেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

|| জহুরুল ইসলাম জহির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ||

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পৌরসভায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের সম্মানে শ্রদ্ধা অর্পনের যেন কেউ নেই। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা না দিলেও নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের শহীদ মিনারে রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকেই ফুল দেয়া শুরু হয়। আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি অযত্নে-অবহেলায় পড়ে রয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারিতেও।

স্থানীয় বাদল, টুটুল ও নাসিম জানান, নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান সেন্টু। ১৯৯৫ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি এটি উদ্ধোধন করা হয়। পরে ২০০১ সালে বর্তমান সরকারের সেসময়ের বাণিজ্যমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল জলিল এমপি নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি আবারো উদ্বোধন করেন।

শহীদ মিনারটি নির্মিত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর শহীদদের সম্মানে শ্রদ্ধার সাথে বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচী পালন করা হতো এখানে। কিন্ত গত কয়েক বছর আগে নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠ চত্বরে বড় আকারে শহীদ মিনার করলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারী, বেসরকারী, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো ফুল দেন না বা কোন ধরণের কর্মকান্ডও পালন করেন না।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এখন হয়ে উঠেছে ছাগলের চারনভূমি এবং শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জায়গা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে নজর দেয়ার যেন কেউ নেই। অযত্মে-অবহেলায় পড়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি।

আরও পড়ুনঃ  মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দু্ই মামলা

সাধারণ মানুষের দাবি আগামীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যেন হয়ে ওঠে শহীদদের স্মৃতি ও শ্রদ্ধা জানানোর মূল কেন্দ্র।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাফরুল আলম এ প্রসঙ্গে জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থাকার পরেও অন্য আরেকটি শহীদ মিনারকে মূলকেন্দ্র করাটা উদ্যোক্তাদের মানসিক দৈন্য ছাড়া কিছুই নয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নিজেদের দায় স্বীকার করে বললেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়া দরকার ছিলো। প্রশাসনের সিদ্ধান্তেই হয়েছে এই শহীদ মিনারে ফুল দেবার ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটিকে অসম্মানের চোখে দেখা হচ্ছে না। পৌর চত্বরে জায়গা না থাকায় নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের সম্মান জানান ফুল দিয়ে।

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ মোবাইলে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আছে কি না জানা নেই তার। আর কোন শহীদ মিনার অবহেলা অযত্নে থাকলে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ারও কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দায়িত্ব থাকা পৌর মেয়রের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সংবাদ সারাবেলা