আজ ১১ই ডিসেম্বর বিজয় পতাকা ওড়ে মুন্সীগঞ্জের আকাশে

২৯শে মার্চ হরগঙ্গা কলেজের শহীদ মিনারে সংগ্রামী ছাত্র জনতার সামনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঐ দিনেই ছাত্রজনতা মুন্সীগঞ্জ অস্ত্রাগার লুট করে এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়।

|| সারাবেলা প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ ||

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধে মুখে মুন্সীগঞ্জ পাকিস্তানী শাষকদের দখলমুক্ত হয়েছিল আজ ১১ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের পর থেকেই দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো প্রতিরোধ প্রস্তুতি নিচ্ছিলো মুন্সীগঞ্জের মানুষও।

২৯শে মার্চ হরগঙ্গা কলেজের শহীদ মিনারে সংগ্রামী ছাত্র জনতার সামনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঐ দিনেই ছাত্রজনতা মুন্সীগঞ্জ অস্ত্রাগার লুট করে এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়।

জেলাটি ঢাকার কাছে হওয়ায় মুন্সীগঞ্জের প্রতি পাকসেনাদের তীক্ষ্ম দৃষ্টি ছিল। ৭১ সালের পয়লা মে, পাকবাহিনীর সৈন্য দল ধলেশ্বরী নদী পার হয়ে শহর ও আব্দুল্লাহপুর লঞ্চঘাট দিয়ে ঢুকে পরে মুন্সীগঞ্জে।

প্রবেশের পর পাকিস্তানি সেনারা সরকারি হরগঙ্গা কলেজে স্থাপন করে তাদের প্রধান ক্যাম্প। এই ক্যাম্পে নির্যাতন-হত্যা চলেছে একাত্তরের পুরোটা সময়। হত্যা করে কলেজেরে পূর্ব পাশে বধ্যভূমিতে ফেলে রাখতো।

ক্যাম্পে বসেই নীলনকশার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন জায়গায় আগুন দেয়া, লুট তরাজ, ধর্ষণ, হত্যাসহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায় পাকসেনারা। পরিশেষে জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধ যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে, ক্রমেই কোণঠাসা হতে থাকে পাক সেনারা।

অবশেষে প্রতিটা জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত এবং কঠিন প্রতিরোধের কারণে ১০ই ডিসেম্বর গভীর রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে পাকি সেনারা পালিয়ে যায়। গাঢাকা দেয় পাকবাহিনীর দোসর রাজাকারর আল বদররাও।

আরও পড়ুনঃ  তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে পৌর মেয়রের বিষদগারের প্রতিবাদ চলছেই

আর ১১ই ডিসেম্বর কাক ডাকা ভোরে মুন্সীগঞ্জের আকাশে ওড়ে বিজয় কেতন। মুক্ত হয় মুন্সীগঞ্জ। মুন্সীগঞ্জে প্রথম ১৪ই নভেম্বর শত্রুমুক্ত হয় টঙ্গীবাড়ী উপজেলা। টঙ্গীবাড়ীই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম পাকসেনাদের দখলমুক্ত হয়। ১৫ই নভেম্বর মুক্ত হয় লৌহজং উপজেলা। ১৭ই নভেম্বর শ্রীনগর ও ২০শে নভেম্বর সিরাজদিখান উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়। গজারিয়া উপজেলা মুক্ত হয় ৯ই ডিসেম্বর। গেরিলাদের সাঁড়াশি আক্রমণে ১০ই ডিসেম্বর গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা মুন্সীগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যায়।

একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মুন্সীগঞ্জে কাতারে কাতারে মানুষ খুন করে। পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, লেখক, সংবাদকর্মী, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ মুক্তিসংগ্রামে নিবেদিত মানুষদের। একাত্তর সালের ৯ মাসে ৩৬৯ বর্গমাইল আয়তনের মুন্সীগঞ্জের ৪২টি স্থানে ১৪৫টি গণহত্যা সংগঠিত হয়।

স্বাধীনতার এতো ৪৮ বছর পার হলেও জেলায় জানা অজানা বেশ কয়েকটি বধ্যভুমি এখনও রয়েছে অরক্ষিত। আর যেসব বধ্যভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ ও নামফলক স্থাপন করা হলেও অনেক শহীদদের নাম আজও রয়েছে অজানা। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে এসব বধ্যভূমিগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি রয়েছে আপামর মানুষের।

মুন্সীগঞ্জ মুক্ত হওয়ার দিনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রশাসন নানা কর্মসূচির অনুষ্ঠান করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সংবাদ সারাবেলা